শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

খাগড়াছড়ির গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের জীবন-সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের বুনন

১৫

॥ মাঈন উদ্দিন বাবলু, গুইমারা ॥
সকালের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে নেমে আসতে দেখা যায় পাহাড়ি নারীদের। কারও কাঁধে ঝুড়ি, কারও সঙ্গে জুমচাষের নানান রকমের ফল। নির্দিষ্ট গন্তব্য খাগড়াছড়ির গুইমারা হাট। উদ্দেশ্য একটাই, নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সুতো ও বুননের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা।

হাটে পা রাখতেই চোখে পড়ে রঙিন দৃশ্যপট। নানা রঙের সুতো, ডোরা আর বুনন সামগ্রীতে সাজানো দোকানগুলো যেন এক একটি ক্যানভাস। পাহাড়ি নারীরা দলবেঁধে সুতো বাছাই করছেন, কোথাও চলছে দরকষাকষি, কোথাও আবার নকশা ও রঙ নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে আলোচনা। এই দৃশ্য কেবল কেনাবেচার নয়, এটি পাহাড়ি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার এক নীরব লড়াইয়ের প্রতিফলন।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে পোশাক শুধুই দৈনন্দিন ব্যবহার্য বস্তু নয়; এটি তাদের পরিচয়, ইতিহাস ও আত্মসম্মানের অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাহাড়ি নারীরা নিজ হাতে কাপড় বুনে আসছেন। আধুনিকতার প্রভাব পড়লেও উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার আজও সমানভাবে চলমান। আর সেই পোশাক তৈরির যাত্রা শুরু হয় হাট থেকে সুতো কেনার মাধ্যমে।

হাটে আসা মেমাচিং মারমা জানান, আমাদের পরিবারের কাপড় আমরা নিজেরাই তৈরি করি। মা আর দাদির কাছ থেকেই এই কাজ শেখা। ভালো কাপড়ের জন্য ভালো সুতো দরকার, তাই নিজের হাতে দেখে কিনি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাহাড়ি নারীদের উপস্থিতি হাটে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে উৎসব ঘনিয়ে এলে সুতো ও বুনন সামগ্রীর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সুতা ব্যবসায়ী বলেন, এই সময় পাহাড়ি নারীরাই সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তারা রঙ, মান—সবকিছু খুব ভালোভাবে যাচাই করেন। এই সুতা শুধু ঐতিহ্য রক্ষার উপকরণ নয়, অনেক পরিবারের জীবিকার মাধ্যমও। বহু পাহাড়ি নারী ঘরে বসেই কাপড় ও পোশাক তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। এতে সংসারের খরচ মেটার পাশাপাশি নারীদের আর্থিক সক্ষমতাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি বুননশিল্প ও পোশাকের উন্নয়নে পরিকল্পিত সহায়তা প্রয়োজন। কাঁচামালের সহজ প্রাপ্যতা, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। গুইমারা হাটে পাহাড়ি নারীদের এই ব্যস্ততা জীবন্ত ইতিহাস। প্রতিটি সুতায় যেন জড়িয়ে আছে সংস্কৃতি, সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য আজও টিকে আছে পাহাড়ি নারীদের নিপুণ হাতে।