শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্পের স্কিমগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে: পার্বত্য সচিবআসলে দেখার কেউ নেই, এখন ধর্মীয় অনুষ্টানের সময়ও পানি কিনতে হচ্ছেদুর্গম এলাকার মানুষের জন্য নিরাপদ পানির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবেএশিয়ান জিমন্যাস্টিকসের মঞ্চে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্টজলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত কাপ্তাইয়েজয় পরাজয় থাকবে তবে মানুষের মাঝে মিলন মেলা আর বন্ধুত্বের জয় হবে: লে. কর্ণেল মীর মোরশেদОткройте для себя мир азарта в Казино Пин-ап с большими деньгами!আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডখাগড়াছড়ির রামগড়ে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনলংগদু রাজনগর বিজিবি জোনের পক্ষে সোলার প্যানেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

খাগড়াছড়ির সন্তান ওয়াদুদ ভুঁইয়া’র রাজনৈতিক জীবনে পরীক্ষিত নেতা

১১

॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে দীর্ঘ দিনের পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত এই নেতার রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সংসদীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একটি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন গড়ে তুলেছেন।

আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়ার জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৬৫ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায়। তার পিতার নাম সালে আহমেদ ভুঁইয়া এবং মাতার নাম বিয়া সালে। ধর্মপরায়ণ ও সামাজিকভাবে সম্মানিত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া ওয়াদুদ ভুঁইয়া ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ করেন। তিনি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে বিএসএস ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

ছাত্র-জীবনেই আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি দলের একজন পরীক্ষিত নেতায় পরিণত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে পাহাড়ি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবে তাকে একাধিক রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করতে হয়েছে। তবে এসব দমন-পীড়ণ তাকে রাজনীতি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, বরং আন্দোলনের মাঠে তাকে আরও দৃঢ় ও আপসহীন করে তুলেছে বলে মনে করেন তার অনুসারীরা। বর্তমানে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক (কর্মসংস্থান বিষয়ক) এই দায়িত্বগুলো পালনের মাধ্যমে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

ব্যক্তিজীবনে তাকে সহজ-সরল, মানুষের সঙ্গে মিশুক এবং সংগঠনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাবান নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী এই নেতা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকেন। স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে দাবি জেলা দলের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস ও সাংগঠনিক দক্ষতা খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।