পুলিশী অভিযানে রাজস্থলীতে মাদক ব্যবসায় জড়িত যুবক আটক
॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িত স্থানীয় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ। আটকের পর পুলিশ বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন। আটক ঐ যুবক উপজেলা যুবলীগের নেতা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চন্দ্রঘোনা থানা সুত্র জানায়, রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মাদক সম্রাট মাসুম তালুকদার (প্রকাশ ছোট মাসুম)কে আটক করেছে পুলিশ। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের আহম্মেদ। ওসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাসুম তালুকদারকে আটক করা হয়। পরে তাকে চন্দ্রঘোনা থানায় নিয়ে আসা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রাঙ্গামাটি সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া করা হবে।
ওসি সাকের আহম্মেদ বলেন, আটক ব্যক্তি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের দাবি, আটক মাসুম তালুকদারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তার বিষয়ে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্যমতে, মাসুম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে রাজস্থলী উপজেলাজুড়ে মাদক সরবরাহ চক্রের অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পাইকারিভাবে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করে উঠতি বয়সী তরুণদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাতেন। এতে বহু তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আটক মাসুম তালুকদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মাদকবিরোধী সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের সহজলভ্যতা শুধু ব্যক্তিগত জীবনই নয়, পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।