শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

বান্দরবানের থানচিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সাঙ্গু নদী হারাচ্ছে গতিপথ

১৫

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু চরে ও নদীতল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পাচার করে আসছেন একটি প্রভাবশালী চক্র। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমেই এই চক্রটি নদীর তলদেশ খুঁড়ে বালু উত্তোলন করে আশপাশের জমিতে স্তুপ করে রাখে এবং সুবিধামতো সময়ে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সাঙ্গু নদীঘেঁষার কৃষি জমিগুলো। যারা এই কাজে জড়িত তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারনে নদী হারাচ্ছে গতিপথ।

জানা গেছে, থানচি সদরে আমতলী পাড়া ভিতরে সেগুনবাগান স্থান ও মসজিদের পাশে শতশত ফুটের বালুর স্তুপ রয়েছে, নারিকেল পাড়া যাওয়ার সড়কে ও বলিপাড়া ইউনিয়নের মনাই পাড়া যাওয়ার ফটক স্থানে ও নদীর ঘাটের বালু উত্তোলন করে স্তুপ রাখা হয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর চরে জমিতে কয়েকটি পয়েন্টে বালু স্তুপ রয়েছে। পরে যা সুবিধামতো করে বিভিন্ন স্থানের ট্রাকে করে পাচার করা হয়। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দারা জানান, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর চর ভেঙে যাচ্ছে, বাড়ছে ভাঙন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গভীরতা নষ্ট হওয়ায় স্রোতের গতি বদলে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ছে।

বালু উত্তোলনে চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বালু উত্তোলন করে রাখা কোনো অনুমোদন পাইনি, হয়তো সামনে জানুয়ারী মাসে অনুমোদন পাবো। তার ভাষ্যমতে, এখানে ৩-৪টি দল বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত রয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঙ্গু নদী পার্বত্য অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। এখানে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে, নদীর পানির স্বচ্ছতা ও গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ রাখার কোনো অনুমোদন নাই। বিভিন্ন স্থানের বালু মজুদ রাখার খবর পেয়েছি, পরিবেশ রক্ষার্থে শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।