শিরোনাম
কাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, বিজিবি’র সদস্য আহতবান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?দুর্গম পাহাড়ে বঞ্চিত বহু মানুষের চিকিৎসা সেবায় মাটিরাঙ্গা সেনা জোনবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানবান্দরবানের লামায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগরাঙ্গামাটিতে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নেকাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হোক

বান্দরবানের থানচিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সাঙ্গু নদী হারাচ্ছে গতিপথ

১৫

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু চরে ও নদীতল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং পাচার করে আসছেন একটি প্রভাবশালী চক্র। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমেই এই চক্রটি নদীর তলদেশ খুঁড়ে বালু উত্তোলন করে আশপাশের জমিতে স্তুপ করে রাখে এবং সুবিধামতো সময়ে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই চক্রটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্টের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সাঙ্গু নদীঘেঁষার কৃষি জমিগুলো। যারা এই কাজে জড়িত তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারনে নদী হারাচ্ছে গতিপথ।

জানা গেছে, থানচি সদরে আমতলী পাড়া ভিতরে সেগুনবাগান স্থান ও মসজিদের পাশে শতশত ফুটের বালুর স্তুপ রয়েছে, নারিকেল পাড়া যাওয়ার সড়কে ও বলিপাড়া ইউনিয়নের মনাই পাড়া যাওয়ার ফটক স্থানে ও নদীর ঘাটের বালু উত্তোলন করে স্তুপ রাখা হয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর চরে জমিতে কয়েকটি পয়েন্টে বালু স্তুপ রয়েছে। পরে যা সুবিধামতো করে বিভিন্ন স্থানের ট্রাকে করে পাচার করা হয়। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দারা জানান, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর চর ভেঙে যাচ্ছে, বাড়ছে ভাঙন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গভীরতা নষ্ট হওয়ায় স্রোতের গতি বদলে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ছে।

বালু উত্তোলনে চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বালু উত্তোলন করে রাখা কোনো অনুমোদন পাইনি, হয়তো সামনে জানুয়ারী মাসে অনুমোদন পাবো। তার ভাষ্যমতে, এখানে ৩-৪টি দল বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত রয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাঙ্গু নদী পার্বত্য অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। এখানে নির্বিচারে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবে, নদীর পানির স্বচ্ছতা ও গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদ রাখার কোনো অনুমোদন নাই। বিভিন্ন স্থানের বালু মজুদ রাখার খবর পেয়েছি, পরিবেশ রক্ষার্থে শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।