শিরোনাম
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে: প্রতিন্ত্রী মীর হেলালখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মিষ্টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মাতৃভান্ডারকে জরিমানাস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

সকল সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বার্থে চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করুন: উষাতন তালুকদার

২০

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য চুক্তি বাতিল মানে ওনারা কি বুঝে, চুক্তি বাতিল অর্থ আমাদের সেই ১৯৯৭ সালে ফিরে যাওয়া। আপনারা কি বলেন সেখানে ফিরে যেতে, যদি না ই বলেন তাহলে আসুন শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনা করি। আমাদের আপত্তিতো নাই, কিন্তু আমরা যদি সেই ১৯৯৭ এ ফিরে যাই তাহলে পাহাড়ে কেউ ভাল থাকবে না। মঙ্গলবার (২পিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এ কথা বলেন।

সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি শহরে জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত এ গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিজেএসএস এর জেলা কমিটির সভাপতি গঙ্গামানিক চাকমা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এমএন লারমা মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা, শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি মনি চাকমা, পিসিজেএসএস এর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুনির্মল দেওয়ান ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রোমেন চাকমা।

উষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যখন করেছি সেই চুক্তি আজ হোক বা কাল হোক পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করে ছাড়বো। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সরকার যদি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে তাহলে সম্মিলিত ভাবে দুর্বার গণ আন্দোলনের মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারকে বাধ্য করতে হবে। পাহাড়ি জুম্ম জনগণ এদেশেরই নাগরিক আমরা ভিনদেশী নয়। তাই এখানকার পাহাড়ি জনগণের অধিকার মানেই মানবাধিকার, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। হতাশ হলেতো চলবেনা। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে অনেকেই পিসিজেএসএস’কে দোষারোপ করতে দেখা যায় যে ভাল ভাল অস্ত্র গুলি ফেলে রেখে এসেছি। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি একটি বুলেট এবং একটি অস্ত্রও ফেলে রেখে আসিনি। পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম থাকলে সেজন্য সরকার দায়ী।

ঊষাতন তালুকদার আরো বলেন, ১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সালে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে অস্ত্র জমাদানের সময় চুক্তি বিরোধীরা কালো পতাকা উড়িয়ে সেøাগান দিয়েছিল এই চুক্তি মানিনা, মানবোনা, এই চুক্তি কালো চুক্তি। তখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। অথচ পরবর্তীতে সেই চুক্তিবিরোধীদের সরকারই আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছিল। আগামী নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় তাহলে জনসংহতি সমিতিও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। তিনি পার্বত্য অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের অধিকারের স্বার্থে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করুন। এ জন্য আমরা সরকারকে উদাত্ত আহবান জানাই।

চুক্তির বর্ষপূর্তির এ গণসমাবেশে জেলা সহ বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়নের এলাকা থেকে শতশত নারী পুরুষ ব্যানার ও মিছিলসহকারে যোগদান করেন।