রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সুমিতা’র পরিবারের পাশে বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন
॥ ইব্রাহীম, বাঘাইছড়ি ॥
জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সুমিতা চাকমার পরিবারকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মারিশ্যা ২৭ জোনের সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসন। নিহতের পরিবারের পাশে থেকে শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, তাঁর ছোট্ট মেয়ের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সুমতি চাকমা’র ছোট্ট মেয়ের জন্য শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, পোশাক, আর্থিক সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন বিজিবি মারিশ্যা জোনের কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে পরিবারটির জন্য চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়। এর আগে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের চম্পাতলী এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় সুমতি চাকমা নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই মারিশ্যা জোনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। সে সময় জোন কমান্ডার নিহত পরিবারের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতেও পরিবারটির যেকোনো প্রয়োজনে বিজিবি মারিশ্যা জোন পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিশ্যা জোনের মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা (এএমসি), বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, সুপ্তশ্রী সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক।
দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় আট বছর বয়সী প্রান্তি চাকমা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মারিশ্যা জোন তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, নতুন পোশাক এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও মানবিক এই উদ্যোগে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসনও। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান-এর পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে টিন এবং অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়। এতে সরকারি প্রশাসন ও বিজিবির সমন্বিত সহযোগিতায় একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়দের মাঝেও স্বস্তি ফিরে আসে।