অবশেষে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতই হলো
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অবশেষে স্থগিতই করা হলো। এ নিয়ে ৪র্থ বারের মতো পরীক্ষা স্থগিত হয়। কোটা জটিলতা নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দল সহ স্থানীয় কিছু সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরোধীতা সহ হরতাল কর্মসূচী দেওয়ার কারনে ২১ নভেম্বরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বৃহস্পতিবার (২০নভেম্বর) দুপুরে পরিষদ কার্যালয়ে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে সাংবাদিকদের লিখিত উপস্থাপন করেন।
দেখা যায়, দুপুরে চেয়ারম্যান এর অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানান। এসময় পরিষদের সকল সদস্য সহ নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে প্রদত্ত প্রেস নোট দিয়ে বলেন, সহকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পূর্বে কয়েক দফায় স্থগিত হওয়ার পর ২১ নভেম্বর-২৫ইং নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্টিত হওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখকে কেন্দ্র করে ডাকা হরতাল এবং সম্ভাব্য পরিবহন ও নিরাপত্তা জনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন শৃ্খংলা রক্ষা কর্তৃপক্ষ সহ আন্যান্য প্রয়োজনী সকল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরিষদ পরীক্ষাটি পুনরায় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। পরীক্ষা স্থগিতের ফলে পরীক্ষাথী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের যে অসুবিধা হয়েছে তার জন্য পরিষদ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে তিনি লিখিত বক্তব্যের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে অন্য কোন কথা বলতে রাজি নন বলে শুরুতেই চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন।
এদিকে জেলা পরিষদ কর্তৃক প্রাথমিক সহকারী শিক্ষাক নিয়োগ এক তরফা, তথ্য বিভ্রাট এবং বৈষম্যমুলক উল্লেখ করে পরিষদ চেয়ারম্যানকে স্মারকলিপি সহ কয়েকদফার বৈঠক করে কেটা বৈষম্য হচ্ছে বলে দাবি করে আসছিল জাতীয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পাটি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙ্গামাটি জেলা শাখা, সহ স্থানীয় আরো ৬টি সংগঠন পরিষদের এ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার আহ্বান জানান। তাদের দাবি জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত কোটার মধ্যে ৭ শতাংশ এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে বাকী ৯৩ শতাংশ মেধা কোটায় নিয়োগ দেওয়ার প্রজ্ঞাপন মানা না হলে কঠোর কর্মসুচী পালনের হুমকী দিয়ে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন। কিন্তু জেলা পরিষদ তার নিজস্ব আইনে চলবে এমন দাবি করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ১৪ নভেম্বর এর পরীক্ষা প্রথমে বাতিল ঘোষণা করে পরে ২১ নভেম্বর (শুক্রবার) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষনা দেন পরিষদ। এতে করে অবারো তার বিরোধীতা করে এসব সংগঠনের নেতৃবন্দ ৩৬ ঘন্টার হরতাল কর্মসুচীর ঘোষণা করেন কোটা আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার হরতালের প্রথম দিনেই তাদের দাবির মুখে জেলা পরিষদ শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এর পর পরই আন্দোলকারীদের হরতালও স্থগিত হয়ে যায়।