শিরোনাম
যতো বেশী প্রচার ততো বেশী উপকার: যুগ্ম ও দায়রা জজখাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ইউএনও-এসিল্যান্ডকে অপসারণের দাবিলংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণবছর পার না হতেই ৪ নার্সের বদলিতে বরকলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহতরামগড়ে তিন দিনের মাথায় ঘন্টা বাজলো ভষ্মিভূত কলাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়েখাগড়াছড়ির রামগড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের শিক্ষা সামগ্রীমাটিরাঙ্গায় টেকসই কৃষি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্র্যাকের দিনব্যাপী কর্মশালাপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎবান্দরবনের থানচির নারিকেল পাড়া সড়কের বেহাল দশায় দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারাঙ্গামাটির লংগদুতে ৪ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৬৬৮, অনুপস্থিত- ৮ জন

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সহযোগিতায় ‘জাবারাং ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে----

খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অধিপরামর্শ সভা

৯০

॥ খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি ॥

খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এর সহযোগিতায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অধিপরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি সমন্বয়কারী জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের ফোকাল পার্সন বিনোদন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মিটন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিপরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিত চন্দ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি সাধন কুমার চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এর প্রোগ্রাম অফিসার রাজেশ কুমার অধিকারী, প্রজেক্ট ডিরেক্টর শেখ মাসুদুল আলম, আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রিপল বাপ্পী চাকমা ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের উপ-পরিচালক ড. মো: মহিবুল আহসান প্রমুখ।

অধিপরামর্শ সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: রিপল বাপ্পী চাকমা এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের প্রত্যাশা ও করণীয় বিষয়ে উপস্থাপন করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের ফোকাল পার্সন বিনোদন ত্রিপুরা।

সেবাপ্রত্যাশী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়ের দুটি পৃথক উপস্থাপনা শেষে উম্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা হাসপাতালের সার্বিক অগ্রগতি ও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য যেমন প্রশংসা করেছেন তেমনি সেবার মান বৃদ্ধিতে উপস্থাপিত প্রত্যাশা ও পরামর্শ বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার নিজের উপস্থাপনায় জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোর মধ্যে সেবার মানের দিক থেকে বিভাগীয় স্কোরিংয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ১ম এবং সারা বাংলাদেশে ৩য় স্থান অর্জনের তথ্য দেন। এরপরও তিনি প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট, র্কমর্কতা র্কমচারীদের র্পযাপ্ত আবাসনের সুব্যবস্থা না থাকা, যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা না থাকা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহরে নিশ্চয়তা না থাকা, ঔষধ ও অন্যান্য আনুসঙ্গকি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ করতে মানসম্মত স্টোর রুমের অভাব, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ১২ তলা ভবনের কাজ ধীর গতিতে অগ্রসর হওয়াকে হাসপাতালের মানসম্মত সেবা প্রদানের বর্তমান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের পক্ষে সেবার মান বৃদ্ধিতে আউটডোর বা ইনডোর টিকিটসহ বিভিন্ন সেবার মূল্য, হালনাগাদ ওষুধের তালিকা দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রকাশ করা, দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের পরিচিতি সংবলিত নামফলক টেবিলে রাখা; পর্যাপ্ত ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশিত ঔষধের ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেয়া; সকল প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালে নিশ্চিত করা; এ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে সুপেয় পানির ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা; সকল শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া; জরুরী বিভাগে মেডিকেল অফিসারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; জেলার একমাত্র আধুনিক হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), বার্ন ইউনিট ও সিটি স্ক্যান চালু করার মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উপর প্রস্তাবনা রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. বিশ্বজিত চন্দ জেলার এই হাসপাতালের সেবার মানের অগ্রগতি ও কয়েকটি অর্জনের পেছনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিভিল সার্জন অফিসসহ জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম সকলের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতাকে প্রশংসা করেন। সেবার মান বাড়াতে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করতে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামকে স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করার আহবান জানান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষে অর্জনে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। প্রয়োজনে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এপ্রোচে সেবার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম গণমানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও অসচেতনতার কারণে হেলথ সিকিং বিহেভিয়র তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে জানালেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা: মিটন চাকমা। গ্রামীণ জনপদের সাধারন এই গণমানুষকে স্বাস্থ্যসেবামূখী করতে গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতামূলক ক্যাস্পেইন আয়োজনসহ স্বাস্থ্য শিক্ষায় সচেতনতা আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি মতব্যক্ত করেন।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক ও পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা।