২৫ বছরেও হয়নি পাকুয়াখালী গণহত্যার বিচার
॥ লংগদু উপজেলা প্রতিনিধি ॥
১৯৯৬ সালের ৯সেপ্টেম্বর সন্তু লারমার নের্তৃত্বাধীন শান্তিবাহিনী বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুয়াখালী নামক স্থানে নিরীহ ও নিরস্ত্র ৩৫ কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৯সেপ্টেম্বর) সকালে লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি উদ্যেগে আয়োজিত নিহতদের স্বরণে দোয়া ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তারা ৬টি দাবী বাস্তবতানের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জনান। সেগুলো হলে-১।পাকুয়াখালী গণহত্যা সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল হত্যারকান্ডের বিচার করতে হবে। ২।১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালী গণহত্যায় নিহতদের পরিবারদেরকে পূর্ণবাসন করতে হবে। ৩।নিহতদের পরিবার থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির দিতে হবে। ৪। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল প্রকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। ৫।পার্বত্য বাঙালিদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ৬।পার্বত্য চট্টগ্রামে ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে সমান সংখ্যক সদস্য নিয়োগ করে ভুমি কমিশন পূর্ণগঠন করতে হবে।
এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ ফরাজি সাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহ’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুুন ভূইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি সালমা আহমেদ মৌ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ির জেলা আহবায়ক মো:সুমন হোসেন, নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, সহ-সম্পাদক এবিএস মামুন, ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও ছাত্র পরিষদের নের্তৃবৃন্দ।
এর আগে একটি শোকর্যালী শুরু হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিহতদের গণকবরের সামনে এসে শেষ হয়।এরপর নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে উপজেলা মাঠের একপাশে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই দিনে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সীমান্তবর্তী পাকুয়াখালী নামক স্থানে গহীন অরণ্যে ৩৫জন হত্যা করা হয়েছিল। পার্বত্য এলাকার বাঙালীরা এই দিনটিকে পাকুয়াখালী ট্রেজেডি দিবস হিসেবে প্রতিবছর এ হত্যাকান্ডের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবী জানিয়ে আসছে।