শিরোনাম
পাহাড়ের বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীকাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরুজিয়াউর রহমান-ই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে রূপরেখা তৈরি করেছিলেন: মীর হেলালআর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনালংগদু উত্তর ইয়ারাংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়বান্দরবনের লামায় মাতামুহুরী নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ ৬ ঘন্টা পর উদ্ধারমানিকছড়ির সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্পেইনকাপ্তাই শহীদ শামসুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বিদায় সংবর্ধনাখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে তদন্ত কমিটিপার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়

ধর্মীয় সফরে বিলাইছড়িস্থ ধুপশীল যাচ্ছেন ড. এফ দীপংকর মহাথের

হিংসা হলো ধর্ম বিরোধী, ধার্মিকতা-বিনয় সুখ ও অধিকার প্রতিষ্টার পথ

১১৯

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

পূজনীয় আর্য্য শ্রাবক সাধনানন্দ মাহস্থবীর বনভান্তের অনুসারী দেব মানব পুজ্য অরণ্য বিহারী,শ্মশানচারী, ত্রি-চীবরধারী এক আহারী পাংশুকুলিক ধূতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথের তাঁর ধ্যান সাধনার প্রথম এবং অন্যতম স্থান বিলাইছড়িস্থ ধুপশীল মহাশ্মশান তথা ধর্মপ্রিয় আন্তর্জাতিক বিদির্শন ভাবনা কেন্দ্র সহ জ্ঞাতি ধর্শনে যাচ্ছেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী বান্দরবানস্থ আর্যগুহা বিমুক্তি বিহার থেকে দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস ধর্মীয় সফর এর উদ্দেশ্যে তিনি বিলাইছড়িস্থ ধুপশীল যাবেন। ধূতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথের এর ভিক্ষু সংঘ, দায়ক-দায়িকা এবং সেবকগণ তাঁর ধর্মীয় সফর এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধুতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথের মানব সমাজের দুঃখ মুক্তির জন্য বলেছেন, অন্ধকার বিনাশের জন্য সূর্য যেমন তার তেজষক্রিয়তাকে নিয়ে প্রচন্ড রূপ ধারন করে তেমনি মানব সমাজ থেকে অন্ধকার দুর করতে শীলবান ভিক্ষুরাও সেই রকম রূপ ধারন করেন। নারিকেলের ভিতরের পানি যদি শুকিয়ে যায় তারপরও তার উপরের কঠিনতাকে সে ত্যাগ করে না। তার ভিতরে ঢুকতে গেলে কষ্ট করতে হয়ে, ঠিক সেভাবেই বুদ্ধও তাঁর কঠিনতাকে ত্যাগ করেননি। তাঁর ভিতরে প্রবেশ করতে হলে ধর্মকে, সত্য জ্ঞানকে লালন পালন করতেই হবে। পূজনীয় ধুতাঙ্গ সাধক বলেন, ভারসাম্য হারায় এমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বুদ্ধের শিক্ষা হলো অসাম্প্রদায়িক এবং বুদ্ধ ধর্মে সম্প্রদায়ের সাথে কোন সম্পর্ক নেই অর্থাৎ তাঁর কাছে সবাই সমান। পার্বত্য চট্টগ্রামে কেউ কেউ ধর্মান্তরিত হচ্ছেন উল্লেখ করে ধুতাঙ্গ সাধক বলেন, লোভ, দ্বেষ-মোহ নিয়ে নিজ ধর্ম ত্যাগ করছে কিন্তু তাঁরা একবার কি ভেবেছেন যে, লেভেল লাগালেই মার্কা নির্দিষ্ট হয় না ধার্মিক হওয়া যায় না। ধর্মান্তর হলেই যে ধার্মিক হয়ে যাবে তার নিশ্চয়তাও নেই, কেননা নিজেকে যতক্ষণ হিংসা, লোভ, দ্বেষ-মোহ থেকে মুক্ত করতে পারবে না ততক্ষণ ধার্মিক বলা যাবে না। আইনষ্টাইনের থিওরি সাবাই মানছেন কিন্তু কেন একজন বিজ্ঞানীকে মানছেন না।

ধুতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথের আরো বলেছেন, বুদ্ধ বৃক্ষতলে বসে বিজ্ঞানকে জয় করেছেন কিন্তু ডাক্তার আর বিজ্ঞানীরা ল্যাব আর অপারেশন থিয়েটারে বসেও সঠিক করতে পারছেন না। কেননা তাঁদের কাম-লোভ, দ্বেষ, মোহ, হিংসা রয়ে গেছে। বুদ্ধ বলেছেন মস্তকবিহীন দেহতো সচল থাকে না অর্থাৎ যার কাছে ধার্মিকতা নেই, জ্ঞান নেই বুদ্ধের শাসনের প্রতি সম্মান নেই সেই মস্তক বিহীন শুধুই দেহ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ নানান প্রতিকুলতায় দিন যাপন করছেন। দুঃখ মুক্তি এবং মানব জীবনের সুখ শান্তির জন্য ধর্ম লালন পালনে উদগ্রীব সাধারন মানুষগুলোকে ধর্ম পালনে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হিংসা হলো ধর্ম বিরোধী, যারা হিংসাকে লালন পালন করছে তাদেরকে সুখী বলা যাবে না, তাদের দিয়ে ধর্মও হবে না। অথচ ধার্মিকতা, মানবিকতা এবং বিনয় দিয়েও সুখ আর অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ সমাজে যে সব ভিক্ষু হিংসা, লোভ, দ্বেষ-মোহকে লালন পালন করে তাদের ত্যাগ করা উচিত। তাদের দিয়ে বুদ্ধের শাসন এবং সকল সম্প্রদায়ের মঙ্গল হবে না। এই অজ্ঞানী, অদক্ষ আর লোভের চিত্ত সাবইকেই বিপদে ফেলবে তাঁরা নিজেরাও বিপদে পড়বে।

এদিকে ধূতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথের তাঁর ধ্যান সাধনার প্রথম এবং অন্যতম স্থান বিলাইছড়িস্থ ধুপশীল সফরকে কেন্দ্র করে সেখানে বৌদ্ধ সমাজ মহাআনন্দে রয়েছে। বিলাইছড়ির বৌদ্ধ সমাজ ধূতাঙ্গ সাধক ড. এফ দীপংকর মাহাথেরকে তাঁদের সান্নিধ্যে নিতে পারছেন এই নিয়ে সেখানের মানুষ তাদের দিনগুলোকে গুনছেন।