॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থাগুলোর পুনর্চিন্তা’ এই প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়িতে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আয়োজনে জেলা শহরের হাসপাতাল সড়কে সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সাধন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধেশ্বর চাকমা সভা সঞ্চালনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রিপল চাকমা, সদস্য, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ড. সুধীন কুমার চাকমা, অধ্যক্ষ, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, অধ্যাপক বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক (অব.) মধূ মঙ্গল চাকমা, শিক্ষাবিদ ধর্মরাজ বড়ুয়া, রত্ন কান্তি রোয়াজা ও সন্তোষিত চাকমা বকুলসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, যাতায়াত, আর্থিক সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। তারা বলেন, প্রবীণদের কল্যাণকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবায় প্রবীণদের জন্য অগ্রাধিকার, সহজপ্রাপ্যতা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বার্ধক্যজনিত নানা সংকট মোকাবিলা সহজ হবে।
আলোচনায় প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মওকুফের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে প্রবীণদের সুবিধার্থে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে দুটি কেবিন বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। বক্তারা আরও বলেন, প্রবীণদের জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং একাকিত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রবীণবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে তারা সমাজে আরও সক্রিয়ভাবে অবদান রাখতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্যের আলোকে তারা দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা পুনর্বিবেচনা, আন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি বের করা হয়।