শিরোনাম
দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে কাপ্তাইয়ে সমাবেশকাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের মানুষ একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতজাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে দীঘিনালায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালাপাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা: ওয়াদু ভুঁইয়া এমপিরাত নামলেই রামগড়-টু-বারৈয়ারহাট সড়কে বিভিন্ন অংশে ডাকাতিখাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে অনুমোদিত পদ ৮২টি কর্মরত আছেন ১৭দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পে কারবারি সম্মেলন ও বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ বিতরণদীঘিনালায় দূর্গম মধ্য বানছড়া এলাকায় সেনবাহিনীর চিকিৎসা সেবাদীঘিনালায় বৌদ্ধ বিহারে সেনাবাহিনীর পাওয়ার টিলার প্রদানবান্দরবানের থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে চাষিরা, ফলন ও আয় ভাল

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে অনুমোদিত পদ ৮২টি কর্মরত আছেন ১৭

২

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খাগড়াছড়ি কমিটির আয়োজনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

সনাক খাগড়াছড়ির সভাপতি বেলা রানী দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা, খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপ্পল বাপ্পী চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কুহেলী দেওয়ান ও তাসলিমা সিরাজ সীমা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহরিয়ার ইউনূস, টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ নুরুল আলাল। সনাকের সদস্য মর্তুজা পলাশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সনাকের সদস্য ও খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ জহুরুল আলম।

এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেবাগ্রহীতা, নাগরিক প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।

গণশুনানিতে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৮২টি থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৭ জন। তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিটে জরুরি চিকিৎসক থাকার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও শয্যাসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবায় বিশেষজ্ঞ না থাকা এবং গর্ভাবস্থা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেনারেল সার্জন না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

হাসপাতালের সেবাকে দালালমুক্ত করার দাবি জানিয়ে সাংবাদিক কানন আচার্য বলেন, রোগী ও স্বজনদের যাতে দালালের মাধ্যমে সেবা নিতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপ্পল বাপ্পী চাকমা বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবা ফ্রি করার বিষয়ে এখনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

গণশুনানিতে আরও আলোচনায় আসে—হাসপাতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতি, রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, জরুরি বিভাগে সেবার সক্ষমতা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট, রোগী ও স্বজনদের তথ্যপ্রাপ্তি, সেবার স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা ও কার্যকর উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চান অংশগ্রহণকারীরা।

পরে গণশুনানিতে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা এবং খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রিপ্পল বাপ্পী চাকমা।