শিরোনাম
মা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি, আপনাদের খেয়াল রাখব: প্রধানমন্ত্রীপ্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ৫০%ছাড় এবং হাসপাতালে দুইটি সিট বরাদ্দ চাইদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে কাপ্তাইয়ে সমাবেশকাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের মানুষ একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতজাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে দীঘিনালায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালাপাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা: ওয়াদু ভুঁইয়া এমপিরাত নামলেই রামগড়-টু-বারৈয়ারহাট সড়কে বিভিন্ন অংশে ডাকাতিখাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে অনুমোদিত পদ ৮২টি কর্মরত আছেন ১৭দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পে কারবারি সম্মেলন ও বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ বিতরণদীঘিনালায় দূর্গম মধ্য বানছড়া এলাকায় সেনবাহিনীর চিকিৎসা সেবা

মা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি, আপনাদের খেয়াল রাখব: প্রধানমন্ত্রী

১

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি বলেছেন, মা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি। আপনারা আমাকে দেখবেন আমি আপনাদের খেয়াল রাখব পাশে থাকব। দশবাসীকে দেওয়া আমাদের কথা আমি রাখছি। বিগত ১৭ বছর দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। সজাগ থাকবেন যারা পালিয়েছে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় এর বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকালে ভিডিও কন্ফারেন্স এর মাধ্যমে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠ থেকে দেশব্যাপী কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশবাসীর উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় সরকারের মন্ত্রী পরিষদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, মন্ত্রী পরিষদের সচিব, সামরিক বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেছেন, নারী শিক্ষা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ আমি নিয়েছি। মা’দেও জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের কৃষি কার্ড আমার দিচ্ছি। এসব অর্থ জনগনেরই তাই বন্টনও করছি হিসেব করেই। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের অসুখবিসুখে সেবা দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩০ বেড করেছিলেন পরে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া ৫০ বেডে উন্নিত করেছিলেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে আমি ১৫০ বেডে উন্নিত করব। তিনি বলেন, আজ থেকে শুরু হয়েছে, দেশের ২ কোটি ৪০ লক্ষ কৃষক তাঁদের কৃষি কার্ড সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাবেন। মা’দের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছি, ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মানি ভাতাও দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের বিষয়ে বলেছেন, দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আনার চেষ্টা চলছে যাতে ব্যবসাবাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। তাই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করলে এসব সম্ভব হবে না। দেশের মানুষ চায় ভাগ্যের পরিবর্তন করতে। কিন্তু যারা পালিয়েছে তারা অরাজকতা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। গুপ্তবাহিনী আর পলাতকরা এখনো ষড়যন্ত্র করছে। গুপ্ত বাহিনী আর পলাতকরা তলে তলে এক ছিল। তাই যারা স্বৈরাচারী রাজনীতি করে তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ৭১’র সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিল। জনগনকে যারা বিভ্রান্ত করতে চায় তাদের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বিগত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। ২৪’র আন্দোলনে স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছে। তাই সাবধান থাকতে হবে পলাতকরা আর গুপ্তরা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কার্ড ও সম্মানীভাতা বিতরণ করে বলেন কিছুতো আমাকে বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শুরু করতেই বলেন, মা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি। আপনারা আমাকে দেখবেন আমি আপনাদের খেয়াল রাখব পাশে থাকব। আপনাদেরকে দেওয়া আমাদের কথা আমি রাখব।

জাতীয় সংসদের ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যে বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া কৃষকগনের উন্নয়নে কৃষি কার্ড, কৃষির উন্নয়নে কৃষি উপকরণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন আমরা করছি। আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র চলছে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। যারা মানুষের ক্ষতিসাধন করেছে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ভন্ড এবং প্রতারকদের কাছ থেকে সাবধান থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছান বিকাল ৪.০৩ঘটিকায় এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান এবং শুরুতে কোরান থেকে তেলোয়াত পাঠ, গীতা পাঠ, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ এর মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত শুরু হলে সবাই দাঁড়িয়ে সকল শহীদ ও জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে মূল পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে ভিডিও কন্ফারেন্স এর মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার মানুষ স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনেও প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ যোগদান করেন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এঁর সভাপতিত্বে এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি, মুহম্ম আব্দুর রকিব, পিপিএম, পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি, মোঃ রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সহ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর পদস্থ কর্মকর্তাগন, প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন, রাজনৈতিক নেতৃবন্দ, সামজিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক পরিবার ও গণমাধ্যমকর্মী।

সমাপনী বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে যে প্রতিশ্রুত জনগনকে দিয়েছে তার বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাই যার যার অবস্থান থেকে সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানাচ্ছি।