শিরোনাম
রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে ডুবে জেলের মৃত্যু, পঁয়ত্রিশ ফুট গভীর থেকে উদ্ধারমানুষ বলছে বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা মাদক ইয়াবায় ছেয়ে গেছেখাগড়াছড়ির রামগড়ে এক বিদ্যালয়ের কেউ পাশ করেনিদুর্নীতি প্রতিরোধ ও আইনের শাসন নিশ্চিতে সুশাসনের বিকল্প নেইরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বালু উত্তোলন করায় বালু সহ সেলুমেশিন জব্দখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় যাত্রীছাউনি উদ্বোধন করলেন জোন কমান্ডারখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুইটি বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেলবেঞ্চ-ডেস্কের অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি, অবশেষে স্বস্তি দুই বিদ্যালয়েসাড়ে তিন মাসের মাথায় মাছ শিকারে জাল পড়লো রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদেআবারো বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়িতে ইয়াবা, পিস্তল সহ গোলাবারুদ উদ্ধার

সাড়ে তিন মাসের মাথায় মাছ শিকারে জাল পড়লো রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
মাছের প্রজনন এবং অবমুক্ত করা পোনা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য উন্নয়ন কপোরেশনের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হলো ৩ মাস ১৫ দিন পর থেকে। জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়ে ১০ আগষ্ট সোমবার মধ্য রাত থেকে জেলেরা হ্রদে মাছ শিকার করতে শুরু করেছে।

কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মৎস্য কর্পোরেশনের মাছ অবতরণ ঘাটগুলোতে। এতে ব্যবসায়ী, জেলে, উদ্যোক্তা, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী মৎস্য শ্রমিকদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাঙ্গামাটি শহরের ফিসারী কার্যালয়ের মৎস্য অবতরণ ঘাটে হ্রদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীদের নিজস্ব জেলেরা বিভিন্ন মাছের মজুদ করতে থাকনে। এসব মাছ বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি, কাপ্তাইসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে জেলেরা নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে আসতে থাকেন। সারি সারি বোটে চাপিলা, কাচকি, টেংরা, আইড়, বাইম, বাচা, কালিগুনিয়া, পাবদাসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ড্রাম নিয়ে ঘাটে ভিড় করতে দেখা যায় জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের মাঝে।

অপর দিকে রাঙ্গামাটির ২য় কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কাপ্তাই লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগৃহিত মাছ নিয়ে এসেছে। এসময় ব্যবসায়ী ও জেলেরা সরকারের শুল্ক পরিশোধের পর মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে ট্রাকে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। দীর্ঘ বিরতির পর জেলে, ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের ব্যস্ততায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো যেন মানুষের উপস্থিেিত প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া, সাজ্জাদ, মোঃ মাইনুদ্দীন এবং ঘাট শ্রমিক আজগর আলীসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা হ্রদ থেকে মাছ শিকার করে ইঞ্জিনচালিত বোট ভর্তি মাছ নিয়ে আসছেন অবতরণ ঘাটে। প্রথম দিন কাচকি, চাপিলা, টেংরা, বাচা, আইড়, কালিগুনিয়া, পাবদা ও বাইম মাছ বেশি ধরা পড়েছে। লেকের পানি কমে এলে ধীরে ধীরে বড় আকারের মাছও বেশি বেশি ধরা পড়বে বলে তারা জানান। তারা আরও জানান, কাপ্তাই লেক থেকে আহরিত এসব মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মোঃ শাহাবুদ্দীন জানান, দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিন পর নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে।

রাঙ্গামাটির মাইনি, শুভলং, বিলাইছড়ির গাছকাটা ছড়া, রাইংখং খালসহ লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা মাছ ধরে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও নিয়ে আসে। এসব মাছ শুল্ক পরিশোধের পর চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশে লেকে কচুরিপানা থাকায় অবতরণ কেন্দ্রে বোট ভীড়তে কষ্ট হচ্ছে।
এ দিকে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কারনে রাঙ্গাাটি শহরের মাছ বাজারগুলোতে আগের তুলনায় ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে ব্যস্ততা যেন বেড়ে গেছে। কোন কোন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন ধীরে ধীরে আমাদের অর্থনীতির চাকা এখন ঘুরবে। এতদিন হ্রদের মাছ শিকার বন্ধ থাকায় বেসরকারিভাবে চাষ করা মাছ বাজারে ক্র-বিক্রয় হতো তবে মানুষের চাহিদা পূর্বের তুলনায় কম। এখন স্থানীয় প্রশাসন মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার কারনে মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এতদিন অগ্রীম অর্থ নিয়ে নিজেদের ভরণপোষন করে এসেছি এখন দায় দেনা পরিশোধেরও সময় এসেছে।

কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ অবতরণ শুরু হয়। এদিন বেলা ১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ হয়েছে। এসব মাছের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। উল্লেখ্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কাপ্তাই লেকে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে লেকের পানির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত থেকে পুনরায় কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়। কাপ্তাই এর মৎস্যঅবতরণ ঘাটে আসা মাছের রাজস্ব আয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে প্রথম দিনই।