শিরোনাম
খাগড়াছড়ির রামগড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহত্যাজলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রামীণ নারীদের নেতৃত্ব বাড়াতে হবেবন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং এর পরিবার পেল ৩ লক্ষ টাকারাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ডেঙ্গু জ্বরে একজনের মৃত্যুবাঘাইছড়ির সাজেকে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আহত ১৩উন্নয়ন মানে শুধু মসজিদ, মন্দির কিংবা স্থাপনা নির্মাণ নয়: ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপিসকল রির্সোট বুক পূজার ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় কাপ্তাইয়ের পর্যটন কেন্দ্ররামগড়ে মন্দির ও বৌদ্ধ বিহার সহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদান বিতরণরামগড়ে সনাতন ছাত্র যুব পরিষদের উদ্যোগে অসহায়দের পূজোর বস্ত্র বিতরণখাগড়াছড়ির পানছড়িতে এসএমজি সহ ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

আছেতো তথ্য অধিকার আইন, তথ্য লুকিয়ে রাখছে কি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ?

৪০

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আইন আছে তথ্যও আছে অথচ তথ্য চেয়ে নির্দিষ্ট সময় পার হলেও কোন তথ্য দিতে নারাজ রাঙ্গামাট জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্মকর্তা এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। বিগত সরকারের সময়ে জনস্বার্থে জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত গ্রামীণ ও শহর উন্নয়নে অবকাঠামো সহ নানান উন্নয়ন কাজের তথ্য চেয়ে আবেদন করলেও একে অপরের কাঁধে তুলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তথ্যই দেয়নি। বরং তারা তথ্য প্রাপ্তির আবেদনকারীকে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপনই করে চলেছে। ভিন্ন পথ অবলম্বনের আশ্রয় নিচ্ছে হুমকী সৃষ্টির ভিন্ন মত ইশারা করা হচ্ছে ।

রাঙ্গামাটি জেলায় সরকারি বেসরকারি এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গুলোর উন্নয়ন কর্মকান্ডের তথ্য চেয়ে আইনীভাবে আবেদন করেও তথ্যপ্রাপ্তির ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিত তথ্য প্রদানে গড়িমসি করে সময় ক্ষেপন করে আসছে। তথ্য প্রাপ্তির কোন কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে নানান অজুহাতে হয় কালক্ষেপন নয় অর্থের টোপ দিচ্ছে অথবা হুমকী সৃষ্টির ভিন্ন মত ইশারা করা হচ্ছে। আবেদনের তিন মাসের অর্থাৎ ৯০ কার্য দিবসের মধ্যে তথ্য দিতে নির্দেশনা রয়েছে অথচ বছর পেরিয়ে গেলেও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না, হয় নি। ফলত তথ্য প্রদানের আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং অন্যদের বে-আইনী কাজগুলো লুকায়িত করতে এসব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে রাঙ্গামাটি পার্র্বত্য জেলা পরিষদে আবেদন করে ঊনিশ মাসেও কোন তথ্য পায়নি বা দেওয়া হয়নি তথ্য প্রাপ্তির আবেদনকারী স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে। আওয়ামীলীগের লুটেরা টাউটদের কারনে প্রতি পরদে পরদে বৈষম্য এবং লুটপাটের মহাযজ্ঞ চলেছিল রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সহ আরো উন্নয়ন বাস্তাবায়নকারী অনেক প্রতিষ্ঠানে। এখন হিসাব বা তথ্য চাইতে গেলে তার কোন হিসাব নাই। নানান পরদের উন্নয়ন কাজের তথ্য চাইতে গেলে কোন তথ্য নাই বা দেওয়া হচ্ছে না, অথবা বিভিন্ন তালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য কর্মকর্তা ও প্রধানগন। তদারকিতে গেলে তথ্য প্রাপ্তির ব্যক্তিকে অর্থে কিনে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা কিনে নিয়ে তথ্যকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। তাই তথ্য প্রাপ্তির আবেদিত ব্যক্তিরা বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগনের যে আখাঙ্খা তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

দেখা যায়, দীর্ঘ ষোল বছর ক্ষমতায় থেকে কপালে স্বৈরশাসকের তিলক লেপন করে ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনে অনেক প্রানের বিনিময়ে ক্ষমতাচ্যুত হন আওয়ামীলীগ সরকার। প্রচন্ড জনবিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের ফলে দেশের দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহন করলেও কাঙ্খিত ফল ভোগ করতে পারেনি এবং পারছেওনা সকল শ্রেণীর মানুষ। দূর্নীতি, বৈষম্য, নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, খুন রাহাজানি, ডিজিটালাইড নানান ফান্দে মানুষের অর্থ লুটপাট সহ ইত্যাদি ইত্যাদি অপরাধ আর বৈষম্য যেন বন্ধই হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী পরিষদ থেকে মানুষ স্বচ্ছ আশা করেও যেন কিছু নেই, সেই বৈষম্য আর তলে তলে মানুষের অধিকার মূল্যহীন অবস্থাতেই রয়েছে। বর্তমান বিএনপির সরকার ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন পূর্ণমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী দিয়েও তিন জেলা পরিষদ নতুন করে গঠন করতে পারেনি দুই মন্ত্রী, উল্টো সোয়া তিন মাসের মাথায় দীপনে দেওয়ান এমপি, মন্ত্রী’র পদ থেকে দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এতে করে মানুষের মাঝে হতাশা আর কোন না কোন ভাবে বৈষম্য ওখানে পাকাপোক্ত ভাবেই রয়েছে।

আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ জনকল্যানে শহর এবং গ্রামীন পর্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছে হাজার হাজার কোটি টাকার এছাড়াও থোক বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও অভিযোগ রয়েছে দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কাজের মান না থাকা, কাজ না করে অর্থের নয়ছয় কার হয়েছে। মানুষের জানার অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে তথ্য অধিকার আইন করা হলেও সে আইন কারো কারো অবৈধ পথে উন্নয়নের উৎস আবার কারো কারোর জন্য স্বচ্ছতার প্রাপ্যতা বাস্তবায়নে আশার উৎস। কিন্তু বাস্তবে সব যেন ভিন্নভাবে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে আইনের অধীন তথ্য দেওয়া না দেওয়ার মধ্যে। তথ্য চাইতে গেলে নানান অজুহাত, তালবাহানা করে সময় ক্ষেপন, অর্থের লোভ দেখানো, কোথাও কোথাও হুমকীর উৎস সৃষ্টি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য কর্মকর্তা থাকলেও উপরওয়ালাদের আদেশ ছাড়া তথ্য দিতে না চাওয়া। আবার পদস্থদের ধারস্ত হলে আজ কাল বা পরশু দিচ্ছি এভাবেই দিন, মাস বছর পার করেছে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান। তথ্য চেয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে আবেদন করে ২০২৬ সালের জুলাই চলছে কিন্তু চাহিত তথ্য তাদের কাছে যেন নাই।

দেখা যায়, তথ্য অধিকার আইনের মূল বক্তব্য হলো বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দূর করা। আইনেই তথ্য চেয়ে তথ্য না দেওয়ায় প্রাপকদের প্রশ্ন আছেতো তথ্য অধিকার আইন, তথ্য লুকিয়ে রাখছে কি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ ?