শিরোনাম
পার্বত্যের বিজু,সাংগ্রাই,বিষু,বৈসু,চাংক্রান ও চাংলান উৎসব বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ভিত্তি: পার্বত্য সচিবচেঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে বিজিবি’র নতুন ব্যাগপরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযানে কাপ্তাই জোনের সেনা সদস্যদেরদেশীয় মদ ভেবে আগাছা নিধনের বিষপানে রাজস্থলীতে যুবকের মৃত্যুরাঙ্গামাটির লংগদুতে সেনা জোনের বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বজ্য ব্যবস্থাপনা সভাচট্টগ্রাম বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতির বদলী প্রত্যাহারের দাবিখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ নীতিমালায় আমের প্রদর্শনীফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমুখী ভাবনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালপাহাড়ি জনগণ আমাদের ভাই-বোন, তাদের নিরাপত্তায় আমাদের সার্বিক দায়িত্বের অংশ:লেঃ কর্ণেল জাহিদুলবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের সহায়তায় ফিরে পেল হারানো ভাইকে

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ নীতিমালায় আমের প্রদর্শনী

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণ ও বিদেশে আম রপ্তানির উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ নীতিমালা অনুসরণে আমের প্রদর্শনী প্লট ও পার্টনার ফিল্ড স্কুল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার গোমতী ব্লকের ফাতেমানগর (উত্তর শান্তিপুর) পার্টনার ফিল্ড স্কুল এলাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাটিরাঙ্গা-এর উদ্যোগে এই মাঠ দিবস ও পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রানা, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ ইউনুছ নূরসহ স্থানীয় প্রগতিশীল কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ১ হেক্টর জমিতে ২ জন কৃষকের যৌথ অংশগ্রহণে একটি আধুনিক প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে উন্নত ও নাবী জাতের ‘গৌরমতী’ আমের চাষাবাদ করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রদর্শনী প্লটের সার্বিক অবস্থা, ফলন সম্ভাবনা এবং এঅচ নীতিমালা অনুসরণে পরিচালিত চাষাবাদ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’ উপজেলার ২৫ জন আম চাষির সম্মিলিত প্রায় ১০ হেক্টর (৭৫ বিঘা) আমের বাগানকে কেন্দ্র করে ১০টি সেশনে পিএফএস স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। এই সেশনগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে নিরাপদ ও মানসম্মত ফসল উৎপাদনের আধুনিক কৌশল শেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে আম চাষাবাদ, সঠিক পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে তাদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যাতে উৎপাদিত আম আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।

মাঠ পরিদর্শনের সময় কৃষি কর্মকর্তারা আম চাষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সঠিক পরিচর্যা, পরিবেশবান্ধব উপায়ে রোগ-বালাই দমন এবং ফলের গুণগত মান ও আকৃতি ঠিক রাখতে এঅচ নীতিমালার গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। একই সাথে আধুনিক ও নিরাপদ আম চাষাবাদ সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়।
গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে ফ্রুট ব্যাগ, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ, নেট, সাইনবোর্ড এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য মাটি ও সেচের পানি পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর ও গোমতী এলাকায় সর্বমোট ১০ হেক্টর জমিতে এই এঅচ কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটানো হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পাহাড়ের কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে ভবিষ্যতেও এই ধরনের ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ কার্যক্রম জোরদার ও অব্যাহত থাকবে।