শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষকদের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকশিক্ষার প্রসার ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মানবিক: বাঘাইহাট জোনকর্ণফুলী কলেজে তালিজোড়া দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, ৩৭ এর মধ্যে কর্মরত ১০ শিক্ষকপ্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেক্রীড়া প্রতিভা খুঁজতে মাটিরাঙ্গায় ‘নতুন কুঁড়ি’র বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিতশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতেও শেখান, ‘স্বপ্নবাহক’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচনমহালছড়ির মুবাছড়ি বন বিহারে শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিতপুলিশ বা প্রশাসন একা মাদক নির্মূল করতে পারবে নাজিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত যুব কমপ্লেক্সই আজকের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর: দীপন তালুকদারপানছড়িস্থ ৩ বিজিবি’র ৭৮ বছরের গৌরবের পথচলায় মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ

ন্যায়বিচার শুধু অধিকার নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

২৬

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
‘‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’’এই স্লোগানকে সামনে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় ‘‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’’ উদ্যাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উদ্যোগে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায়, বর্ণাঢ্য র‌্যালি সহ লিগ্যাল এইড মেলা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচী পালন করা হয়।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং চেয়ারম্যান, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি মোঃ আহসান তারেক এঁর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সম্মানিত বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ তফাজ্জল হাসান হিরু, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার, মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিশাত শারমিন, এড. মামুনুর রশিদ মামুন, বিজ্ঞ সরকারী কৌঁশুলী, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, এড. প্রতীম রায় (পাম্পু), বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিহির বরণ চাকমা ও চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) এ.এস.এম এমরান।


এছাড়াও অতিথি সারিতে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার স্পেশাল মেডিয়েটর (অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ) মাহাবুবুর রহমান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মনীষা মহাজন, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাং হেলাল উদ্দিন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পাবলিক প্রসিকিউটর প্রতীম রায় পাম্পু, জিপি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ ও দুলাল কান্তি সরকার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সাংবাদিকবৃন্দ মানবাধিকার সংগঠন, এনজিও, সংশ্লিষ্ট থানা, আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনগত সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের পক্ষ থেকেও বক্তব্য রাখেন মোঃ সাইফুল ইসলাম।

আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) এ.এস.এম এমরান। তিনি জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের তাৎপর্য এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ধারাবাহিক কর্মকান্ড তুলে ধরেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্টির মানুষ বিনা খরচে তাদের ধিকার আইনগত অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হচ্ছেন। ন্যায়বিচার শুধু একটি অধিকার নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা সে অধিকারকে সবার জন্য নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের জেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ আহসান তারেক লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে সকলের অংশগ্রহণ জরুরী। দরিদ্র মানুষের আইনগত অধিকার প্রাপ্তিতে সকলকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্য করার আহবান জানান। বিশেষত চলমান মামলার জট নিরসনে আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর আগে ২০২৬ সালের সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট মোঃ শফিউল আলম মিঞা ও এডভোকেট সুস্মিতা চাকমাকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

জনসচেতনতার র‌্যালির পরে আলোচনাসভা অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে আদালত ভবন চত্বরে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের উদ্বোধন করেন বিচারকমন্ডলী এবং অতিথিবুন্দ। এসময় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সভাস্থলে উপস্থিত থেকে সরকারের আইনী সহায়তার বিষয়গুলো আবলোকন করেন। উদ্বোধনের পরপরই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক হ্যাপীর মোড় ও বনরুপা হয়ে পুনরায় আদালত প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। পরে অতিথিরা শোভাযাত্রা পরবর্তী আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।