কর্ণফুলী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে অধ্যায়ন করছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী। অথচ তাঁদের পাঠদানের জন্য৩৭টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১০ জন। শূন্য রয়েছে ২৭টি পদ। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংকটের পাশাপাশি আবাসন ও পরিবহনসুবিধার ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম। জাতীয়করণের পরও কাটেনি জনবলসংকট। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র দুজন। অতিথি শিক্ষক ও অস্থায়ী কর্মচারীদের সহযোগিতায় চলছে পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম।
॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজটি শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারী তীব্র সংকটে ভুগছে। কলেজটিতে তালিজোড়া দিয়ে চলছে শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম। কর্ণফুলী কলেজটি ১৪একর জায়গাজুড়ে ১৯৭৮সালে মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৮সালে এ কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়। এছাড়াও কাপ্তাই উপজেলায় বর্তমানে কলেজ সহ স্কুলগুলোতেও শিক্ষক সংকটের কারনে শিক্ষা কার্যক্রমের অবস্থা বেহাল।
কর্ণফুলী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ে অধ্যায়ন করছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী। অথচ তাঁদের পাঠদানের জন্য ৩৭টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১০ জন। শূন্য রয়েছে ২৭টি পদ। শিক্ষক ও কর্মচারীর সংকটের পাশাপাশি আবাসন ও পরিবহনসুবিধার ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম। জাতীয়করণের পরও কাটেনি জনবলসংকট। কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র দুজন। অতিথি শিক্ষক ও অস্থায়ী কর্মচারীদের সহযোগিতায় চলছে পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম।
কাপ্তাই ছাড়াও বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও রাজস্থলীর উপজেলার দুর্গম এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসেন। দূরত্ব ও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতায় অনেককেই কলেজের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়। এতে পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাড়ছে থাকা-খাওয়ার ব্যয়।
এদিকে রাজস্থলী উপজেলা থেকে আসা শিক্ষার্থী মেমেচিং মারমা বলেন, দূরবর্তী এলাকা থেকে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করা কষ্টকর। আবাসন ও পরিবহনসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমত। জুরাছড়ি উপজেলা থেকে এসে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন শিক্ষার্থী জুঁই চাকমা। তিনি বলেন, পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাসাভাড়া ও খাবারের ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। ছাত্রীদের জন্য আবাসনসুবিধা চালু হলে এ দুর্ভোগ কমত। বিলাইছড়ি থেকে আসা শিক্ষার্থী লাকি তঞ্চঙ্গ্যাও একই সমস্যার কথা জানান। তাঁর মতে, আবাসন ও যাতায়াতসুবিধা বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সহজ হতো।
এদিকে ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা নিরসনে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন হোস্টেল ভবন। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে সেটি এখনো চালু হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তাঁদের দাবি, ভবনটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, সীমানাপ্রাচীর, রান্নাঘর, ডাইনিং রুম, পর্যাপ্ত আলো ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। ফলে নির্মিত ভবন থাকলেও আবাসনসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দূরদূরান্তের ছাত্রীরা।
শিক্ষার্থী সোহেল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় প্রতিটি বিভাগের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন।পাহাড়ের দুর্গম জনপদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম ভরসা কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজ। অথচ শিক্ষকসংকট, অপ্রতুল জনবল ও আবাসন সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শূন্য পদে নিয়োগ, ছাত্রী হোস্টেল চালু ও পরিবহনসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
কর্ণফুলী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৬ সালের পর নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ সংকট নিরসনে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও অদ্যবতি কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম শিক্ষক সংকটে ভুগছি।