শিরোনাম
সরকারি মাতামুহুরী কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবিতে ৭২ ঘন্টার আলটিমেটামখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ওএমএসের পন্য বিক্রি শুরুখাগড়াছড়ির রামগড়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবির মানবিক সহায়তারাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ৩৮ বোতল দেশীয় কেয়ারু মদ জব্দলামায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিতসরকারের প্রধান লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা: দীপেন দেওয়ানকফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ জরুরিপার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালঅবশেষে দুই দিন পর কাপ্তাই হ্রদেই মিলল ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির মরদেহ

রাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির বৈসু উৎসবে নদীতে ভাসানো হয়েছে ফুল

১২

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনায় তাদের সামাজিক প্রধান উৎসব “বৈসু” পালন করেছে। পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে ১৩ এপ্রিল পালন করেছে নদীতে ফলু ভাসানো কর্মসুচী। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের গর্জনতলীর বসুন্ধরা এলাকায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময়, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশন সভাপতি বিদ্যুৎ শংকর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সাগরিকা রোয়াজা, গেষ্ট অব অনার ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রিজাউল করিম, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন, শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা সাধারণ সম্পাদক, ত্রিপুরা কল্যান ফাউন্ডেশন, রাঙ্গামাটি, জীবন রোয়াজা প্রমুখ।

এসময বক্তারা বলেন, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির সামাজিক উৎসব হলো ‘বৈসু’। চৈত্র সংক্রান্তি পুরনো বছরের গ্লানি ও দুঃখ দূর করে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে নতুন বছরে অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, বৈসু উৎসব আমাদের ইতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন যা হাজার বছরের ইতিহাস বহন করে। বৈসু উৎসব সম্প্রীতি ও জাতি-ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন তৈরি করে।

বৈসু উৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, গরিয়া নৃত্য, বতল নৃত্য, গঙ্গা দেবীকে উদ্দেশ্য করে ফুল ভাসানো পুজা, পিঠা তৈরী, পাজন তৈরি, বয়োজ্যেষ্ঠ স্নান সহ নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কান্তি ত্রিপুরা জানান, চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন—এই তিন দিনে বৈসু পালিত হয়। প্রথম দিন হারি বৈসু (ফুল ভাসানো), দ্বিতীয় দিন বৈসুমা (মূল উৎসব), এবং তৃতীয় বা শেষ দিনকে বিসিকাতাল (নববর্ষ উৎসব) বলা হয়। ফুল ভাসানো (হারি বৈসু): ত্রিপুরা নারীরা ভোরে নানারকম ফুল এবং নিম পাতা সংগ্রহ করেন। পরে ঐতিহ্যবাহী পোশাক (রিনাই-রিসা) পরিধান করে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে নদীতে ফুল ভাসিয়ে পূজা দেন এই সময়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়। এই প্রাণের উৎসবটি মূলত প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে তুলে ধরে এবং পাহাড়ি জনপদে উৎসবের বর্ণিল আমেজ নিয়ে আসে।