শিরোনাম
কিশোর বাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ বিতরণকাপ্তাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ৪৪৯ জনে শনাক্ত ২৫, সুস্থ ২৪ জনহাতি সংরক্ষণে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে: প্রধান বন সংরক্ষকবান্দরবানের থানচিতে দর্শনীয় বহু স্থানের ঐতিহ্যের নামগুলোর সঠিক ব্যবহার দরকারদুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো আর পানির কষ্ট ঘোচাতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগপ্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বানমা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি, আপনাদের খেয়াল রাখব: প্রধানমন্ত্রীপ্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ৫০%ছাড় এবং হাসপাতালে দুইটি সিট বরাদ্দ চাইদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে কাপ্তাইয়ে সমাবেশ

কাপ্তাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ৪৪৯ জনে শনাক্ত ২৫, সুস্থ ২৪ জন

১

॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ বাড়ছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে একজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত দিনে চিকিৎসা নেওয়া ২৫ রোগীর মধ্যে ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু। এ পর্যন্ত ৪৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতিও রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চাপ থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারমা জানান, গত মাসের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাইয়ের পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে তিন মাসব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি শনিবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে সেখানে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, হটস্পট এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে এসব ময়লা প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানো গেলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।