শিরোনাম
কিশোর বাঘাইহাট সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ বিতরণকাপ্তাই উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ৪৪৯ জনে শনাক্ত ২৫, সুস্থ ২৪ জনহাতি সংরক্ষণে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে: প্রধান বন সংরক্ষকবান্দরবানের থানচিতে দর্শনীয় বহু স্থানের ঐতিহ্যের নামগুলোর সঠিক ব্যবহার দরকারদুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার আলো আর পানির কষ্ট ঘোচাতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগপ্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বানমা’তো নাই বহুদিন পর নানাবাড়ি এসেছি, আপনাদের খেয়াল রাখব: প্রধানমন্ত্রীপ্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ৫০%ছাড় এবং হাসপাতালে দুইটি সিট বরাদ্দ চাইদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে কাপ্তাইয়ে সমাবেশ

হাতি সংরক্ষণে সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে: প্রধান বন সংরক্ষক

১

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেছেন, যারা হাতির আক্রমণে আপনজন হারিয়েছেন, তারাই বুঝেন কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতি কোন ভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। শুধুমাত্র সমবেদনা জানানোর জন্যেই বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ আর্থিক সহযোগিতা মাত্র। হাতির আবাস্থল দখল করে জনবসতি, জুম চাষ ও বাগান সৃজনের কারণে হাতির খাবার সংকট দেখা দেয়। আর খাবার না পেয়ে হাতিরা লোকালয়ে নেমে পড়ে মানুষ ও ফসলের ক্ষতি করছে। এতে হাতি মানুষের মধ্যে দ্বন্ধও সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য ইতিমধ্যে সরকার হাতি সংরক্ষণের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহন করেছেন। এছাড়া প্রতিটি হাতি প্রবণ এলাকায় ইআরটি নামের একটি দল গঠন করা হয়েছে। এ দলের সদস্যরা হাতি সংরক্ষণে কাজ করছেন।

সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক জনাব মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক জনাব মিহির কুমার দো। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ মঈন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জনাব মোস্তাফিজুর রহমান।এসময় বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত রেঞ্জ অফিসার, কর্মকর্তা কর্মচারী, সাংবাদিক, ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, হাতি জাতীয় সম্পদ, হাতির আবাসস্থল নষ্ট না করে উন্মুক্ত রাখা জরুরী। কোনভাবেই হাতিকে মারা যাবেনা বরং সকলে মিলে হাতি সংরক্ষণে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে হাতি আমাদের জায়গায় আসেনি, আমরাই তাদের বিচরণের জায়গা দখল করেছি। বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণে নিহত পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ এবং হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে এইসব কথা বলেন তিনি। রবিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে লামা বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকার দ্রুততম সময়ে এই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম লামা বন বিভাগের আওতাধীন সাঙ্গু বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য প্রকল্পটি অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন। লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজায় ৫ হাজার ৭৬০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হলেও সরকারের সদিচ্ছার কারণে থমকে আছে প্রকল্পটি। অভয়ারণ্যটি বাস্তবায়ন করা হলে এই এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতির আক্রমণে একজন নিহত ব্যক্তিসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জন ব্যক্তির হাতে সর্বমোট ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।