শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবনের থানচিতে তিন্দু সড়ক এখন মরণফাঁদ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম নেটওয়ার্ক বিহীন তিন্দু ইউনিয়নের সড়কপথে নির্মিত সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়কের শুরু ও শেষের প্রান্তে পিচঢালাই সম্পন্ন হলেও সড়কের মাঝখানে তিনটি পয়েন্টের অসম্পূর্ণ কাজ রয়েগেছে। সড়কটি উপজেলা সদরে সাথে একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম হওয়া সত্বেও নিরাপত্তাহীনতার ফলে এখন কার্যত মরণফাঁদের পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য এই সড়কটি হওয়ার কথা ছিল নিরাপদ যোগাযোগের ভরসা। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনকভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সড়ক নির্মাণের অসম্পূর্ণ তিনটি স্থান ও মারাত্মক টার্নিং কারণে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, তিন্দুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসা পর্যটকদেরও ভ্রমণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে এখনো বাধ্য হয়ে নৌপথে যাতায়াত করছেন তারা।

জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে ইটসলিং নির্মাণ করেছিলেন পাউবো। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা বাজেটের এলজিইডি সড়কটির সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৫০০ মিটার অংশ এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই দুই প্যাকেজের কাজ বাস্তবায়ন করছেন উপঠিকাদার মোঃ আনিসুর রহমান সুজন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের শুরু ও শেষের প্রান্তে পিচঢালাই সম্পন্ন হলেও মাঝখানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অংশে ইটের আস্তর পর্যন্ত নেই। নির্মাণের এই অসম্পূর্ণতা জনদুর্ভোগ বাড়িয়েছে, যান চলাচল বিঘিœত সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন বলেন, সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়কপথে দুইটি স্থানে বেশি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। খাড়াখাদ, তীব্র বাঁক, ভাঙাচোরা অংশ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষের যাতায়াতের অসুবিধা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দার আঙোয়াই চিং মারমা, মেনডং ম্রো: ও মেনলে ম্রো: বলেন, তিন্দু এলাকার হাজারো মানুষের জন্য এই সড়কই একমাত্র সড়কপথ। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিনই তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। তবে ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই নৌপথ ব্যবহার করছেন। ইতোমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা।

অন্যদিকে তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, যুগের পর যুগ এই জনপদের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম ছিল নৌপথ। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে সড়কপথ যুক্ত হলেও সেই সড়কই এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ। খাড়া পাহাড়ি ঢাল, বিপজ্জনক বাঁক, ভাঙাচোরা অংশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অভাব। ফলে সড়কটি ব্যবহার না করে বাধ্য হয়ে এখনো নৌপথে যাতায়াত করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন জানান, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তিন্দু সড়কের কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় এবং প্রাকৃতিক কারণে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে কিছুদিন আগে পরিদর্শন করেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।