শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

রাঙ্গামাটির লংগদুতে বন রক্ষায় লাইসেন্সবিহীন করাত কল বন্ধ করতে হবে

১৬

॥ মোঃ আলমগীর হোসেন, লংগদু ॥
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় করাত কলের কোন অনুমোদন নেই। এর পরেও গড়ে উঠেছে বেশ কিছু করাত কল। বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এসব করাত কল বন্ধ করা হলেও আবারো চালু করেছে কেউ কেউ। অথচ এসব করাত কলের অনুমোদনে পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো ছাড়পত্র দেয় নি। কিন্তু এসব করাত কলে সরকারের রিজার্ভ বন থেকেও গাছ এনে কোন কোন ব্যবসায়ীরা গাছ চিড়াই করে বাজারজাত করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছেন, লংগদু উপজেলায় পরিচালিত কোনো করাত কলেরই বৈধ লাইন্সেস নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেই। অবৈধভাবে নির্বিচারে পাহাড় ও বনাঞ্চল হতে গাছ কেটে কাঠ সরবরাহ এবং বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে বনের কাঠ উজার হচ্ছে ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। স্থানীয়রা এসব করাত কলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহবান জানিয়েছেন প্রশাসন, বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর এর কাছে।

এবিষয়ে উপজেলার উল্টাছড়ি রেঞ্জ এর এক কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, লংগদুতে করাত কলের কোনো বৈধ লাইন্সেস নেই। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে লংগদুতে রিজার্ভ ফরেস্ট কাঠশূন্য হয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় নুরুন্নবীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ করাত কল মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি করাত কল মালিককে জরিমানা ও কিছু করাত কল সিলগালা করা হয়, অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পুনরায় চালু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে আবারও চালু হচ্ছে অবৈধ করাত কলগুলো। পরিবেশ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমরাও অভিযোগ পেয়েছি, স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ অনুমোদন বিহীন করাত কলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে যাবে। পরবর্তী পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙ্গামাটি সতর্কীকরণ নোটিশ প্রেরণ করবে।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, আমার জানা মতে করাত কলের বৈধ লাইন্সেস নেই। প্রয়োজনে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। অবৈধ করাত কলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি। তিনি আরও জানান, পরিবেশ ও বন রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঝুম নিয়ন্ত্রণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কুদ্দুস ভূঁইয়া বলেন, এটা আমাদের ঝুম নিয়ন্ত্রণ বনবিভাগের অধীনে উল্টাছড়ি রেঞ্জ থেকে কার্যক্রম দেখা হয়। সেখানে লাইন্সেসবিহীন করাত কল রয়েছে, সেগুলো স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান বা মোবাইল কোর্ট চলানো হবে। এমনি প্রত্যেকটা করাত কলের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করছে। লাইন্সেস ব্যতীত করাত কল চালাতে যেন না পাওে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা ও বন আইনে মামলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, করাত কল বিধিমালা-২০১২/৭ (১) ধারায় ১০ কিলোমিটার সীমানায় করাত কল থাকতে পারে না। আগামী ২০-২৫ বছর পাহাড়ে রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় পানীয় জলের চরম সংকটে পড়বে কারণ গাছ না থাকলে পানি থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।