শিরোনাম
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে: প্রতিন্ত্রী মীর হেলালখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মিষ্টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মাতৃভান্ডারকে জরিমানাস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

এনসিপির নেত্রী অ্যাড. মনজিলা’র বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গায় এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

১৪

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও এনসিপির নেত্রী এ্যাড: মনজিলা জুমার ফেসবুক লাইভে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মনজিলা জুমা তার ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, রসুলপুর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে চাঁদাবাজি করছে। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রসুলপুরের সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনা জানার পর পরই সোমবার বিকেলে রসুলপুর মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ওয়াজ মাহফিলটি সম্পূর্ণ এলাকার উদ্যোগে আয়োজন করা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নেই। সমাজের সদস্যরা স্বেচ্ছায় অর্থ সহযোগিতা করে প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলের আয়োজন করেন। কোনোভাবেই চাঁদাবাজি বা জোরপূর্বক অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা অভিযোগ করেন, মনজিলা জুমার ভিত্তিহীন ও অসত্য মন্তব্যে পুরো এলাকার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তারা বলেন, আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে মাহফিল করি, এখানে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিনি আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। এলাকার আমেনা বেগম বলেন, আমি নিজেও ১ হাজার টাকা দিয়েছি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়নি। চাঁদাবাজির অপবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা আমরা এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রোকন উদ্দিন নাসির বলেন, আমরা প্রতিবছর সমাজের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে ওয়াজ মাহফিল করে থাকি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নেই। মনজিলা জুমা আমাদের সমাজের কেউ নন। তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছেন। তার ঐ পোস্ট ডিলিট করতে হবে এবং লাইভেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া বলেন, আমাদের সমাজে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানই স্বেচ্ছাশ্রমে হয়। এবারও সমাজের মানুষ যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ নেই। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাজকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ হাফিজুল ইসলাম শিকদার বলেন, এলাকার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেও এলাকাবাসী বিশেষ করে বিএনপিকে চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনজিলা জুমার ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি।

এসময় অন্যান্য বক্তারা আরও বলেন, এনসিপির নেত্রী মনজিলা জুমা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তারা তার প্রকাশ্য ক্ষমা এবং যথাযথ তদন্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে রসুলপুর এলাকার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন।