শিরোনাম
মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, বিজিবি’র সদস্য আহতবান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?দুর্গম পাহাড়ে বঞ্চিত বহু মানুষের চিকিৎসা সেবায় মাটিরাঙ্গা সেনা জোনবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানবান্দরবানের লামায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগরাঙ্গামাটিতে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নেকাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হোকখাগড়াছড়ির রামগড়ে পুজামন্ডপ পরিদর্শনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপিদুর্গাপূজা উপলক্ষে রামগড়ে ৫০ অসহায় নারীকে শাড়ি প্রদান

এনসিপির নেত্রী অ্যাড. মনজিলা’র বিরুদ্ধে মাটিরাঙ্গায় এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

১৫

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও এনসিপির নেত্রী এ্যাড: মনজিলা জুমার ফেসবুক লাইভে দেওয়া মন্তব্যের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মনজিলা জুমা তার ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, রসুলপুর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নামে চাঁদাবাজি করছে। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রসুলপুরের সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনা জানার পর পরই সোমবার বিকেলে রসুলপুর মসজিদ সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, ওয়াজ মাহফিলটি সম্পূর্ণ এলাকার উদ্যোগে আয়োজন করা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নেই। সমাজের সদস্যরা স্বেচ্ছায় অর্থ সহযোগিতা করে প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলের আয়োজন করেন। কোনোভাবেই চাঁদাবাজি বা জোরপূর্বক অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা অভিযোগ করেন, মনজিলা জুমার ভিত্তিহীন ও অসত্য মন্তব্যে পুরো এলাকার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তারা বলেন, আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় টাকা দিয়ে মাহফিল করি, এখানে চাঁদাবাজির প্রশ্নই আসে না। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তিনি আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করেছেন। এলাকার আমেনা বেগম বলেন, আমি নিজেও ১ হাজার টাকা দিয়েছি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়নি। চাঁদাবাজির অপবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা আমরা এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

রসুলপুর সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ রোকন উদ্দিন নাসির বলেন, আমরা প্রতিবছর সমাজের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে ওয়াজ মাহফিল করে থাকি। কারো কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নেই। মনজিলা জুমা আমাদের সমাজের কেউ নন। তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছেন। তার ঐ পোস্ট ডিলিট করতে হবে এবং লাইভেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া বলেন, আমাদের সমাজে সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানই স্বেচ্ছাশ্রমে হয়। এবারও সমাজের মানুষ যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ নেই। কিন্তু আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাজকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

মসজিদের পেশ ইমাম মোঃ হাফিজুল ইসলাম শিকদার বলেন, এলাকার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেও এলাকাবাসী বিশেষ করে বিএনপিকে চাঁদাবাজির অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা মনজিলা জুমার ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি।

এসময় অন্যান্য বক্তারা আরও বলেন, এনসিপির নেত্রী মনজিলা জুমা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি। তারা তার প্রকাশ্য ক্ষমা এবং যথাযথ তদন্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে রসুলপুর এলাকার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করেন।