শিরোনাম
রাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণরাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে আগুনে পুড়ে ছাই অংথইউ খিয়াং এর ঘরবাবার ক্যান্সারে ও স্ত্রী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অর্থ সংকটে তনচংগ্যা পরিবারহাতির অবাধ বিচরণ, হাতি সূরক্ষা সহ হাতির করিডর সচল রাখতে হবেরাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা, মাদক সেবনকারীকে জেলদূর্যোগ হল দুটি তারমধ্যে একটি প্রাকৃতিক অন্যটি হল মানব সৃষ্ট দূর্যোগমানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: সাচিং প্রু জেরী

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীতে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে ১২ গ্রামের মানুষ

॥ দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি ॥
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা, পেরাছড়া ইউনিয়নের চেলাছড়া পাড়া অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চেঙ্গী নদীর ওপর স্থায়ী ব্রিজের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই চরম দুর্ভোগে আছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা, খরা মৌসুমে বাঁশ-ও-কাঠের সাঁকো ছাড়া নদী পারাপার করা প্রায় অসম্ভব। এমনকি নদী পারাপারের সময় নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণও হারিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, চেলাছড়া পাড়া থেকে শুরু করে পেরাছড়া ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম এবং পাশের মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের মানুষও নদীর এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে। এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ। গ্রামবাসী যোগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, নৌকা ডুবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বিন্দু ত্রিপুরা, চিত্ত ত্রিপুরা ও বনানী ত্রিপুরা নামে চারজন শিক্ষার্থী নদীতে পড়ে মারা গেছেন। মাত্র একটি ব্রিজের অভাবে চার হাজার পরিবারের মানুষ ভুক্তভোগী। ব্যবসা-বাণিজ্যেও অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সেতু হলে এলাকার জীবনমান ও অর্থনৈতিক উন্নতি হবে।

অপর গ্রামবাসী প্রদীপ ত্রিপুরা বলেন, আমাদের প্রতিদিন নদী পার হতে হয়। শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ। উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বাজারে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে। চেলাছড়া পাড়া গ্রাম প্রধান মঞ্জু নারায়ণ ত্রিপুরা এবং মহিলা কার্বারী শ্রাবণী ত্রিপুরা জানান, আগের সরকারের সময়ে ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি। নতুন সরকারের কাছে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি জানাচ্ছি। পাশের মায়ুং কপাল বা বাংলায় ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্যও ব্রিজটি গুরুত্বপূর্ণ। নদীর পূর্বপাড়ে রয়েছে পেরাছড়া সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিমপাড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বর্ষার সময় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা নিরাপদে নদী পারাপারে সমস্যায় পড়েন। পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিম্বিসার খীসা বলেন, সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্যার সময় বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়, শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেয়। এই দুর্ভোগ প্রতিটি বছর চলতেই থাকে।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেলাছড়া পাড়া ও পল্টনজয় পাড়া নৌকা ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের সুবিধার্থে দুইটি নৌকা বিতরণ করেছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা জানান, প্রস্তাবিত ব্রিজটি এলজিইডি আওতাভুক্ত সড়কের মধ্যে পড়ে কিনা তা যাচাই করা হবে। সড়ক অন্তর্ভুক্ত হলে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

স্থানীয়রা আশাবাদী, সরকারী উদ্যোগে চেঙ্গী নদীতে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধুমাত্র যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না, পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যও সমৃদ্ধি লাভ করবে।