শিরোনাম
পাহাড়ের বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীকাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরুজিয়াউর রহমান-ই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে রূপরেখা তৈরি করেছিলেন: মীর হেলালআর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনালংগদু উত্তর ইয়ারাংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়বান্দরবনের লামায় মাতামুহুরী নদীতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ ৬ ঘন্টা পর উদ্ধারমানিকছড়ির সিন্দুকছড়ি সেনা জোনের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল ক্যাম্পেইনকাপ্তাই শহীদ শামসুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বিদায় সংবর্ধনাখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শনে তদন্ত কমিটিপার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়

পাহাড়ে বস্তায় আদা চাষে সাফল্য

৪৭

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ের মাটিতে মিশ্র ফল বাগানের ফাঁকে বস্তায় আদা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। সে কারণে বাণিজ্যিকভাবে এ পদ্ধতিতে আদা চাষে ঝুঁকছেন তারা।

আদা উচ্চমূল্য ও ভেষজ ওষুধিগুণে ভরপুর এবং মসল্লা জাতীয় ফসল। নিত্যদিন রন্ধনশালায় নানা খাবারে স্বাদ বাড়াতে আদার জুড়ি নেই। ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল হিসেবেও আদার চাহিদা ব্যাপক। তাই সারা বছর বাজারে ভোক্তার কাছে এর চাহিদা বেশি।

মাটিতে সরাসরি আদা চাষে মাটির আদ্রতা রক্ষা করা যায় না। এতে ঘাসের যন্ত্রণায় মাটি শক্ত হয়ে যায়। ফলে আদার বিস্তারে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফলন কমে যায়। আর বর্ষাকালে মাটিতে পানি জমে আদা পঁচে যায়। কিন্তু বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ করলে এ ধরনের কোনো ঝুঁকি থাকে না। বস্তায় মাটি নরম থাকে ফলে ঘাস কম হয়।

এদিকে মাটিরাঙ্গার মোহাম্মদপুর এলাকায় রশিদ মিয়ার বাগানে গিয়ে দেখা মিলে প্রায় সহস্রাধিক বস্তায় একটি মিশ্র ফল বাগানে আদা চাষ। প্রায় এক একরের একটি মিশ্র ফল বাগান করেছেন তিনি। পথ চলতে পথের পাশেই বাঁশের ঘেরার ভিতরে সারি সারি বস্তায় আদা গাছ গাছগুলোও বেশ সুন্দর পাতার রং আর সতেজতা দেখেই যে কেহ বুজতে বাকি থাকবে না যে এ বাগানে ভাল ফলন হবে। প্রায় ১টন আদা উৎপাদন আশা করে করা বাগানের কেয়ারটেকার অনুমান করে বলেন, প্রতি কেজি আদা ২৫০/৩০০ টাকা কেজি মূল্য হলে প্রায় আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকার আদা বিক্রি করা যাবে।

মাটিরাঙ্গায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে বস্তায় আদা চাষ দিন দিন বেশ জনপ্রিয় পাচ্ছে। উপজেলার বড়নাল, তবলছড়ি, তাইন্দং ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এর চাষ করা হয়। মাটিরাঙ্গায় আদা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪৩০ হেক্টর, অর্জিত ৪৪০ হেক্টর।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী জানান, মাটিতে মসলা জাতীয় আদা চাষ করলে ভূমি ক্ষয় ও নানা ধরনের রোগ বালাইয়ের ঝুঁকি থাকে। জমিতে আদা চাষে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি কন্দপঁচা রোগ। টানা ১০ থেকে ১৫ দিনের বৃষ্টিতে হলে এই রোগের সংক্রমণ হয়। কিন্ত বস্তায় আদা চাষে সেই ঝুঁকি নেই। যতই বৃষ্টি হোক বস্তায় পানি বেশিক্ষণ জমে থাকে না। আর যেহেতু প্রতিটি বস্তা আলাদা আলাদা তাই কন্দ পঁচা রোগ সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ নেই।