রাঙ্গামাটিতে উন্নয়ন বোর্ডের ফুড এন্ড কালচারাল ফেষ্টিভাল উৎসব-২০২৪
আমরা যদি ভুলে যাই তাহলেতো আমাদের স্ব-স্ব সংস্কৃতি লুপ্ত হয়ে যাবে: প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর আয়োজনে রাঙ্গামাটিতে ‘ফুড এন্ড কালচারাল ফেষ্টিভাল-২০২৪ং উৎসবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি বলেছেন, বাঙ্গালি সহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহু জাতি গোষ্ঠির এ দেশ বাংলাদেশ। প্রত্যেকের কৃষ্টি সংস্কৃতিতেও আলাদা আলাদা বৈচিত্র্য রয়েছে। এসবকে ধরে রাখতে হবে। আমরা যদি ভুলে যাই তাহলেতো আমাদের স্ব-স্ব সংস্কৃতি লুপ্ত হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (১ফেব্রুয়ারী) বিকালে রাঙ্গামাটি চিংহ্লা মং মারী ষ্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা এর সভাপতিত্বে সম্মানীত অতিথি ছিলেন, দীপংকর তালুকদার এমপি, বিশেষ অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্ট্রগাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মশিউর রহমান, এনডিসি, রাঙ্গামাটি রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ পিএসসি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, অংসুইপ্রু চৌধুরী, উন্নয়ন বোর্ড এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ মোশারফ হোসেন খান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, বিপিএম (বার), সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক করিম ও আবব্দুল্লাহ আহসান। মেলার অনুভুতি প্রকাশ করেন, সংগীত শিল্পী মনোরঞ্জন বাহাদুর গুর্খা ও সংস্কৃতিকর্মী রুম্প্রা ম্রো। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, আজকের এই ফেষ্টিভাল অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার একটি ভালো আয়োজন। আমাদের প্রত্যেক জাতি গোষ্ঠির নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং খাবারের দিকেও স্ব-স্ব ঐতিহ্যের খাবার রয়েছে। নানান কারনে এসব খাবারও হারিয়ে যেতে বসেছে। এ আয়োজন এসবকে মানুষের মনে জাগিয়ে তুলবে। আমরা যদি ভুলে যাই তাহলেতো আমাদের স্ব-স্ব সংস্কৃতি লুপ্ত হয়ে যাবে। এসব ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। তিনি সবাইকে বলেন, কোন গন্ডগোল হলে সেখানে পরে যাবেন কিন্তু যেখানে খাবার আগে সেখানে আগে চলে যাবেন।
সম্মানীত অতিথি ছিলেন, দীপংকর তালুকদার এমপি, বলেছেন, খাবার আর পোষাকের কোন সীমান্ত নেই। ভাবের আদান-প্রদান মানুষকে কাঁছে টেনে নেয়। এ আয়োজনও মানুষে মানুষে সম্পর্কের স্থান দৃঢ় করবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, এ উৎসব আন্ত সম্পর্কের উন্নয়ন হবে। সন্দেহ আর অস্থিরতা আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই কোন দ্বিধা দন্ধ নয় আমরা সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি সম্প্রীতি উন্নয়ন এ স্লোগান নিয়েই সেনাবাহিনী কাজ করছে। এ আয়োজন আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। রাজধানীতে এর আয়োজন করা হলে আরো বেশী করেই দর্শক এবং প্রচার পেতো।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেছেন, আমরা আজ আর হতাশ নই। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে যার যার অবস্থান থেকে আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেছেন, কোন জাতি গোষ্ঠিকে পিছনে ফেলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। সীমান্ত সড়কগুলো হয়ে গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্যের আরো উন্নতি হবে।
পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেছেন, শুধু প্রাকৃতিকভাবেই পাহাড়ী এলাকা সুন্দর তা নয়। এখানকার মানুষগুলোও খুব সংস্কৃতিমনা।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকল অতিথিদের সাথে নিয়ে প্রধান অতিথি বেলুন উড়িয়ে এ ফেষ্টিভাল এর উদ্বোধন করেন। এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১৬ জাতিগোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের অনেক স্টল বসে।