শিরোনাম
রাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণরাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে আগুনে পুড়ে ছাই অংথইউ খিয়াং এর ঘরবাবার ক্যান্সারে ও স্ত্রী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত অর্থ সংকটে তনচংগ্যা পরিবারহাতির অবাধ বিচরণ, হাতি সূরক্ষা সহ হাতির করিডর সচল রাখতে হবেরাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা, মাদক সেবনকারীকে জেলদূর্যোগ হল দুটি তারমধ্যে একটি প্রাকৃতিক অন্যটি হল মানব সৃষ্ট দূর্যোগমানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: সাচিং প্রু জেরী

মাটিরাঙ্গায় জনপ্রিয় হচ্ছে বোরো ধানের আদর্শ বীজতলা

৪৫

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥

আর ক’দিন বাদেই কৃষক বোরো ধান লাগাবেন। তাছাড়া অনেক স্থানে বোরো ধান লাগানো শুরু করেছেন অনেকেই। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বোরো মৌসুমে দিন দিন বাড়ছে আদর্শ বীজতলার জনপ্রিয়তা। এ বীজতলায় উৎপাদিত ধানের চারা যে কোন বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে পারে। একইসাথে সুস্থ চারা উৎপাদন ও কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

আদর্শ বীজতলায় চারা উৎপাদন খরচ সাশ্রয় ও উৎপাদন বৃদ্ধি হয়। তাই মাটিরাঙ্গা উপজেলার সকল স্থানে এ বীজতলা তৈরিতে ঝুঁকছেন চাষিরা। এ বীজতলা তৈরিতে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি অফিস।

সনাতনী বীজতলার তুলনায় আদর্শ বীজতলায় উৎপাদিত চারার স্বাস্থ্য ভালো হয়। বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় শিকড়ে মাটি ধরে না, ফলে চারাগুলো কোনও আঘাত পায় না। জমিতে রোপনের পর শতভাগ চারা জীবিত থাকে এবং অল্প সময়ে বেড়ে উঠে। চারা সবল থাকায় ধানের ফলনও ভালো হয়। স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে বীজ কম লাগে। ফলে খরচও কম হয়।

আদর্শ বীজতলা পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে শুকনো জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। জমি প্রস্তুত হলে ২ হাত প্রস্থ এবং ইচ্ছেমতো দৈর্ঘ্য নিয়ে বেড তৈরি করতে হবে। মানসম্মত বীজ সংগ্রহপূর্বক পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেগুলো বীজতলায় সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজ ছিটানোর পরে আলতো করে মাটি নেড়ে ঢেকে দিতে হবে। ২৫-৩০ দিনের মধ্যে চারাগুলো রোপণের উপযুক্ত হয়।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ২ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হতে পারে ২২শত হেক্টরের বেশি। এর বিপরীতে ১৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্জিত হতে পারে ১৬০ হেক্টর জমি।
উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের কৃষক আমান উল্ল্যাহ জানান, স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজ, শ্রম, সার ও সেচ খরচ কম লাগে এবং চারার মান ভালো পাওয়া যায়। তাই আমি এ পদ্ধতি অনুসরণ করি।

মাটিরাঙ্গায় চড়পাড়ার কৃষক মোঃ জমির আলী বলেন, সনাতন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ৫০ কেজি বীজ প্রয়োজন হতো সেখানে আদর্শ পদ্ধতিতে ৩৫ কেজি বীজ লাগে। ফলে বীজতলা তৈরিতে খরচ কম হয়।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী বলেন, আদর্শ বীজতলার বিষয়ে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। এ বীজতলা তৈরির ফলে আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, সেচ দেওয়া, বালাই দমন সহজ হয় একইভাবে সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন হয়। স্থানীয় পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে বীজ কম লাগে। ফলে খরচও কম হয়।