এবছর রাজস্থলী ও কাপ্তাইয়ের ১২টি মন্দিরে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে
॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহৎতম ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এর বিভিন্ন পূজামন্ডপগুলো। মৃৎশিল্পীরা শেষ পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর পবিত্র মহালয়ার মাধ্যমে মহামায়ার শুভাগমনের বার্তা ধ্বনিত হবে। মৃন্ময়ী মাকে চিন্ময়ী রূপে দর্শনের আহবানে আগামী ২০ অক্টোবর দেবী দুর্গার বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা এবং ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে সনাতনী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা।
এবার মা দুর্গার আগমন ও গমন দুটোই ঘটবে ঘোটকে। যার ফলে প্রকৃতি মাতার চতুর্দিকে দৃশ্যমান হবে ঝড় তুফান জলোচ্ছাস সহ গঙ্গা মাতার করুণাধারার অমিত সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান চন্দ্রঘোনা পরমহংস স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ-রক্ষা কালী মন্দির ও সেবাশ্রম’র অধ্যক্ষ শ্রীমৎ গুরুকৃপানন্দ মহারাজ।
রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ঝন্টু পাল ও দীপক কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এ বছর কাপ্তাই রাজস্থলীতে ১২টি পূজা মন্ডপে অনুষ্টিত হবে শারদীয়া দুর্গোৎসব। এছাড়াও প্রতি বছরের ন্যায় বিজয়া দশমীর দিন কর্ণফুলী নদী মোহনায় নৌ র্যালীর মাধ্যমে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে এবং অনুষ্ঠিত হবে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, এমপি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও লগগেইট জয়কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ ধর পিন্টু বলেন, ইতিমধ্যে রাজস্থলী কাপ্তাই সহ উপজেলার ১২ টি পূজা মন্ডপ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
বাঙালহালিয়া বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী দক্ষীনেশ্বর কালি মন্দিরের পুজা কমিটির সভাপতি সুমন দে বলেন, ইতিমধ্যে এই মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ পুরোদমে চলছে। আমাদের পূজা মন্ডপের এইবারের থিম “পদ্ম ধরণী।” মা দুর্গার চিরন্তন পছন্দ পুষ্প হলো পদ্ম। তাই এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা মায়ের মন্ডপকে সাজানোর চেষ্টা করছি।
চন্দ্রঘোনা, রাজস্থলী ও কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ জানান, পূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটা মন্দিরেই থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার, গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল ও মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া প্রতিটি মন্দির কমিটির স্বেচ্ছা সেবকরা সমন্বিতভাবে পূজা মন্ডপে আনসার ও পুলিশকে সহায়তা করবেন। দেবী বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে আমাদের। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে তাঁদের অন্যতম সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা আনন্দের মধ্যে দিয়ে সুন্দর ভাবে উদযাপন করতে পারে সেদিকে পুলিশ এর পক্ষ হতে সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হবে।