বান্দরবানে লামায় রাবার সংগ্রহে বাঁধা ও প্রাণনাশের হুমকি
॥ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ॥
লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজার লম্বাখোলা এলাকায় ৭৫ একর বিস্তৃর্ণ পাহাড়ী ভূমিতে রাবার সংগ্রহে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চুক্তিতে রাবার সংগ্রহে দায়িত্বে লোকজনকে মারধর, খুন করে লাশগুম, রাবার বাগানে আগুন, টেপিং করা রাবার চুরি করে নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে চুক্তিতে বাগান নেয়া রাবার চাষী মোঃ ইকবাল হোসাইন লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে।
লামা থানায় করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা দক্ষিন সিটি এলাকার পল্টন শান্তিনগর-১২১৭ চামেলীবাগ এলাকার মোস্তফা মাহমুদ ও ফারহানা মোস্তফা মালিকানাধীন লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৩০৩নং ডলুছড়ি মৌজার রাবার হোল্ডিং ১১, ১০ ও ১৩ এ মোট ৩টি হোল্ডিংয়ে ৭৫ একর সৃজিত রাবার বাগান গত ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২২ইং তারিখ হইতে তিন বছর মেয়াদে তিন লক্ষ টাকা অগ্রীম প্রদান করে ভাড়া নেয় সরই লম্বাখোলা এলাকার মোঃ ইকবাল হোসাইন ও মোঃ মাইনুদ্দিন। চুক্তি অনুযায়ী মোঃ ইকবাল হোসাইন ও মোঃ মাইনুদ্দিন রাবার বাগানে রাবার গাছ কাটা টেপার খরচ, কীটনাশক ও জঙ্গল কাটা সহ রাবার টেপিং করে আসছে।
গত ১লা মার্চ ২০২২ইং সকাল ৮টায় লম্বাখোলা এলাকাস্থ মোস্তফা মাহমুদের রাবার বাগানে ভাড়া চুক্তি অনুযায়ী রাবার টেপিং এর কাজ করার সময় গিয়াস উদ্দিন (৫২), পিতা- নজির আহাম্মদ, সাং- বুড়াবন্যা আন্দারী জামালপুর, আনোয়ার হোসেন (৩২) ও দেলোয়ার হোসেন (৩০), উভয় পিতা- মৃত ফজর আলী, সাং- লম্বাখোলা বিবাদীরা আমাদের দেখতে পেয়ে অহেতুক গালি-গালাজ ও মারধর করার জন্য হাঁকাবকা করে। আমরা বিবাদীগণকে কারণ জিজ্ঞাস করলে বিবাদীগণ উত্তেজিত হয়ে আমাদেরকে খুন ও জখমের হুমকি দেয়। উক্ত বিবাদীগণ আমাদেরকে উল্লেখিত রাবার বাগানে অর্থাৎ ঘটনাস্থলে দেখিলে মারধর, খুন করে লাশগুম, রাবার বাগানে আগুন দেয়া, টেপিং করা রাবার চুরি করে নিয়ে যাওয়া ও বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় বিবাদীগণের এহেন কর্মকান্ড, প্রাণ নাশের হুমকির স্বীকার হয়ে ও জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
অপর রাবার চাষী মোঃ মাইনুদ্দিন বলেন, প্রতিকারের আশায় বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে সরই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিস কোম্পানী উল্টো মুঠোফোনে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। পরে তিনি জানতে পারেন বিবাদীরা তার অনুগত লোকজন।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মোঃ ইকবাল হোসাইন এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাধারণ ডায়েরি নেয়া হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে সরই পুলিশ ফাঁড়িকে বলা হয়েছে।