শিরোনাম
বিএনপি চুক্তির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, আঃলীগ শুধুমাত্র স্বাক্ষর করেছে: শিশির চাকমাখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় দুই ফার্মেসীকে ৭ হাজার টাকা জরিমানাবান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ২০০ কেজি পোনামাছ অবমুক্তদীঘিনালায় বেসরকারি সংস্থার প্রকল্প অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভালংগদু জোনের উদ্যোগে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতকাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণখেলাধুলা সামাজিক অবক্ষয় থেকে সমাজকে রক্ষা করে: বি. জেনারেল সোহেলমাটিরাঙ্গায় ক্ষতিকর পোকা শনাক্তে আলোক ফাঁদ স্থাপনজব্দ ড্রেজার মেশিন প্রশাসনের অফিস সহায়কের বাসায় কেন প্রশ্ন ব্যবসায়ীদেরহিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে ত্রিপুরা প্রতিনিধি নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি

বিএনপি চুক্তির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, আঃলীগ শুধুমাত্র স্বাক্ষর করেছে: শিশির চাকমা

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শ্রী শিশির চাকমা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের কখনো বিরুদ্ধে যেমন ছিলাম না তেমন বাঙালিদের বিরুদ্ধেও ছিলাম না, ক্রোধও ছিল না। আমরা বিএনপিকে তিন জেলায় নির্বাচিত করেছি তারা যদি আত্মতুষ্টিতে ভোগেন তাহলে ভুল হবে। আমাদেরকে না জানিয়ে না রেখে কমিটি নিয়ে শান্তি আসবেনা। বিএনপি পার্বত্য চুক্তির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আওয়ামীলীগ শুধুমাত্র স্বাক্ষর করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা এঁর (এমএন লারমা) ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমী হলরুমে সকাল ১০ঘটিকায় আয়োজিত সভায় শ্রী উষাতন তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শ্রী বিজয় কেতন চাকমা, সভাপতি, এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন, অ্যাড. শ্রীমতি সুস্মিতা চাকমা, অন্তর চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জুয়েল চাকমা, সদস্য সচিব, এমএন লারমা এঁর ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কিমিটি।

প্রধান অতিথি শ্রী শিশির চাকমা আরো বলেছেন, আমাদেও আত্মপরিচয়, মূল্যবোধ অধিকার এসব বিষয়ে সংসদে তুলে ধরেছেন কিন্তু এর পর যারা সাংসদ হয়ে সংসদে গেছেন আমাদেরকে কষ্ট দেয়। ১৯৮৩ তে এমএন লারমাকে শেষ করেছে কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, আদর্শ ও চিন্তা-চেতনাকে শেষ করা যাবেনা। বিএনপি পার্বত্য চুক্তির মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু আওয়ামীলীগ শুধু স্বাক্ষর করেছে। ২৯ বছর হলো অথচ চুক্তি বাস্তবায়ন হয় নাই। তিনি বলেন, সমতলে প্রতিনিয়ত যেসব ঘটনা ঘটছে পার্বত্য অঞ্চলে সেগুলো আমরা কল্পনাও করিনা।

প্রধান অতিথি আরো বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে সংসদীয় যে তিনটি কমিটি করেছে তা একপক্ষীয়। এমন হয়েছে যে শিশু কাঁদছে তার জন্য খাদ্য নাই। তাই বোকার স্বর্গে বসবাস করবেন না। আমাদেরকে না জানিয়ে না রেখে কমিটি নিয়ে শান্তি আসবেনা। আমরা বিএনপিকে তিন জেলায় নির্বাচিত করেছি তাতে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন তাহলে ভুল হবে। তাই চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত কখনো সুখকর হবে না। পাহাড়ী বাঙালিদের মধ্যে আমাদের দ্বন্ধও নাই সংঘাতও নাই।

অতিথির বক্তব্যে শ্রী বিজয় কেতন চাকমা বলেছেন, একনীতি এবং এক আদর্শ ছাড়া অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। সবচেয়ে আগে আমাদের মায়েরা সচেতন হতে হবে। তাই মায়েরা জ্ঞানীগুনি হও আমরা সুন্দর জাতি পাব। চেছল্লিশ বছর হলো আমরা এমএন লারমাকে হারিয়েছি। ভাই ভাই লড়াই করি আর আমাদেও অধিকার লুন্ঠিত য়ে যায়। তিনি বলেন, তিন রাজা, তিন এমপি আর তিন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একসাথে থাকলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হবেই।

অ্যাড. শ্রীমতি সুস্মিতা চাকমা বলেছেন, যাদের ত্যাগ আর সংগ্রামের বিনিময়ে পাবত্য চুক্তি হয়েছে কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি আমরা দেখছি তাতে আমাদের থেকে অক্সিজেন কড়ে নিতে চাচ্ছে। এখন আমরা যে অবস্থায় আছি তাতে আমাদের ভাববার দরকার।

অন্তর চাকমা, এমএন লারমা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধ্যান্য দেননি। অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সংগ্রামে সোচ্ছার ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে সমতলের একজন প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার যদি জুম্মজনগনের অস্থিত্ব বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে সেটি আমরা মেনে নেবোনা। তাই আজকের তরুন সমাজের দরকার গভীরভাবে ভাবা।

জুয়েল চাকমা বলেছেন, নির্যাতন নিষ্পেষণ এর বিরুদ্ধে আমাদের জাগ্রত হতে হবে। মহান নেতা এমএন লারমা শিখিয়েছেন নেতৃত্বেও মৃত্যু হয় কিন্তু আদর্শের মৃত্যু হয় না। তাই আমাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ নেবেনে না।

মভাপতির বক্তব্যে শ্রী উষাতন তালুকদার বলেছেন, এমএন লারমা পাহাড়িদের নয় নির্যাতীত নিপীড়ির মানুষের একজন নেতা। জুম্মম জনগনের অস্থিত্ব এখন সংকটাপন্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদী কেউ নাই। ইউপিডিএফ, কেএনএফকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের গঠিত তিন কমিটি নিয়ে পাহাড়ের মানুষ উদ্বিগ্ন এবং উৎকন্ঠিত। আমরা সবাইকে নিয়ে থাকতে চাই বলেই চুক্তির এত বছর হয়েগেলেও বাস্তবায়নের অপেক্ষ করছি।

এমএন লারমা জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতার আয়োজন করে জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি। প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা স্বতস্ফুতভাবে অংশ গ্রহন করে। মঙ্গলবারের আলোচনাসভা শেষে অতিথিবৃন্দরা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শেষ হয়।