শিরোনাম
পরিশ্রান্ত বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদারকে স্বার্থক ও সম্মান করলো প্রধানমন্ত্রীখাগড়াছড়ির দীঘিনালা প্লাবিত সাজেক-লংগদু-সড়ক যোগাযোগ বন্ধজেলা পরিষদের সদস্য মনোনীত হওয়ায় বান্দরবানে মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যাকে সংবর্ধনারাঙ্গামাটির বরকলে আইমাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সুবিমল চাকমাকে সংবর্ধনাবুনো হাতির আক্রম থেকে মানুষকে বাঁচাতে দেড়কোটি টাকার সোলার অকার্যকরবৈষম্য রেখেই অবশেষে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হলোবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে আবারো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার, জড়িতরা অধরাইতোমাদের মেধা ও যোগ্যতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে: মাটিরাঙ্গা ইউএনও মিতুস্বাধীনতার ৫৫বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি কাপ্তাইয়ের কয়েকটি গ্রামমাটিরাঙ্গায় ‘সম্প্রীতি কাপ’ ফুটবল শুরু: প্রথম দিনের ম্যাচ ড্র

পরিশ্রান্ত বিএনপি’র সভাপতি দীপন তালুকদারকে স্বার্থক ও সম্মান করলো প্রধানমন্ত্রী

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির বর্তমান সভাপতি দীর্ঘ বছর ধরেই দলের কাজ করে আসছেন। দলের সাথে থেকে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম আর নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন সার্বক্ষনিক। বিগত সরকারের সময়ে খেয়ে না খেয়ে দলের কার্যক্রম ধরে রাখতে জেলা উপজেলায় পরিশ্রম করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি যেন পরিশ্রান্ত। অবশেষে বিএনপি’র সভাপতি পরিশ্রান্ত দীপন তালুকদারকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে স্বার্থক ও সম্মান করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেখা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলে পুরোদেশের মতো রাঙ্গামাটিতেও অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মাঝে পরিশ্রান্ত মনের অবসান আর স্বার্থকতার দীর্ঘশ^াস আসে। ধীরে ধীরে এবার রাজনৈতিক মাঠের সফলতার ফল তুলতে অপেক্ষার দিন গুনছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারকে চেয়ারম্যান করায় দলের অংগসংগঠনের তৃণমূল নেতকার্মীরাও বেজায় খুশি। তাদের মতামত হলো দীপন তালকুদার প্রত্যেক নোকর্মীকে যাই করেত পারুক অন্তত তিনি চিনবেন এটাই হলো প্রত্যাশা, তাই আপত্তিতো নয় বরং তাকে সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতিতে এগোতেও চায় সবাই।

জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, দলের সাবেক ত্যাগীদের পরে উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান সহ ত্যাগী আরো অনেক নেতাকর্মীর পর দীপন তালুকদারের সময় কেটেছে দলের পাশে থাকতে। নেতৃত্বের হাল ধরতে ত্যাগ স্বীকার করতেও কৃপনতা দেখাননি। একটি সময় এসে দলের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পান। জেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ শাহ আলম হঠাৎ মৃত্যু বরণ করলে দলের নেতৃবৃন্দরা দীপন তালুকদারকে শাহ আলমের পদেই স্থালাভিষিক্ত করেন। একটি সময় গিয়েছে বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কৌশলে নেতৃত্বকে সবার মাঝে নিঃস্বার্থ তুলে ধরতে যখন যে অবস্থায় ছিলেন সেভাবেই নিজেকে সামনে রেখেছেন, কখনো নীরব কিংবা কখনো বলিষ্ট বক্তব্যে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা চেয়েছিলাম তাঁকে উপযুক্ত সম্মান করা হোক। কিন্তু রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টিকারীরা নানান টানপড়েন সৃষ্টি করলেও অবশেষে সফলতা আসলো প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের কারনে। তাই দীর্ঘ জলপনা কল্পনার পর দীপন তালুকদারকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হলে অনেকেরই মাঝে প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে আসে। তাঁকে চেয়ারম্যান করায় প্রধানমন্ত্রী সহ পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি’র প্রতি কৃতজ্ঞ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে রাজনৈতিক জাতীয় দলের পাশাপাশি আঞ্চলিক দল এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের অনেকেই জানিয়েছেন, আর যাই হোক একজন পরিক্ষিত নেতাকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে কতটুকু বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন সেটা তাঁর উপরই নির্ভর করছে। তবে এখনো জেলা পরিষদে যা দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে দলের অনেক নেতাকর্মী ৯টা ৫টাই ডিউটি করছেন। তাদের কারনে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, অন্যান্য অফিসের কর্মকতা কর্মচারীরা এমনকি সাহার্য্যপ্রার্থীরা বিরক্তি মনোভাব প্রকাশ করছেন। এসবের নিয়ম সৃংখলা থাকা দরকার বলে মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসুচীর দিক নিদের্শনাকে এখানেও উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের ফ্যাসিবাদের বলয়ে আবদ্ধ অনেক নেতার কর্মকান্ড যেন আওয়ামীলীগ ছিল তাদের ব্যানার কিন্তু মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত অর্থ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া। সেই চিত্র এখন আর দেখতে চায় না কেউ, তবে দল আর নেতৃত্ব দিতে গেলে ব্যবসাবাণিজ্য আর অর্থেরও প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। তবে এবার পরিষদের সদস্যদের ক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দরকার ছিল। এখানে বৈষম্য হয়েছে কেননা বৈষম্যেরই বিরুদ্ধে মানুষের আন্দোলন ছিল।

অপর দিকে বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির অনেক নেতাদের ত্যাগ থাকলেও তাদের চাল চলনে পোষাক পরিচ্ছদে ভিন্নতা দেখা গেছে। কিন্তু সভাপতি দীপন তালুকদার প্রকাশ দিপুকে দেখা যেত ভিন্নভাবেই। পোষাক পরিচ্ছদে তাঁকে দেখা যেত একেবারে সাধারণ মানুষের মতোই। এমনও দেখা গেছে পোষাকের শ্রী ছিলনা কিন্তু পুরনো বাইক চালিয়ে দলের নেতৃত্বে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ারই মতো। তিনিও দলের জন্য পরিশ্রমী তাঁকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করায় পরিশ্রান্ত বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদারকে স্বার্থক ও সম্মান করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।