॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিকক্রম হতে চললো এরই মধ্যে কতো সরকার এলো গেলো অথচ রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম তিনটি ইউনিয়নের মানুষ এখনো বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। পাহাড় সমতলের মানুষ যখন এটি জানছেন তখন কেউ কেউ হাস্যকর বললেও অনেকে বলছেন তাদের ভাগ্য কি এতই খারাপ যে তাদের জন্য কোন সরকারই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারলো না। সত্যি হলো যে বেশ কটি গ্রাম এখনো বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত।
দেখা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ নেই। এসব গ্রামের গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যাতলী ও হরিণছড়া সহ আরো কিছু গ্রামের শত শত পরিবার স্বাধীনতার ৫৫বছর অতিক্রম করছে অথচ তারা বিদ্যুতের আলো দেখেনি। এই সুদীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে একদিকে মানবেতর জীবনযাপন করছে অন্যদিকে মানবাধিকার থেকেও বঞ্চিত। সদর উপজেলার নিকটবর্তী এসব গ্রামের অবস্থান হলেও ভৌগোলিকভাবে এগুলো অত্যন্ত দুর্গম। পাহাড়-অরণ্যবেষ্টিত এ গ্রাম একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করাও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক সুবিধা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। অথচ সেখানেই অর্থাৎ কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১১০/১২০ মেঘাওয়ার্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রতিদিন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এসব এলাকায় প্রচলিত বিদ্যুৎ সংযোগের পরিবর্তে প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারি উদ্যোগে উন্নতমানের সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে ঘর আলোকিত করার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা, মোবাইল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ভানুমতি চাকমা (ভানু মেম্বার) জানান, দুর্গম এসব এলাকার মানুষের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও চেষ্টা করে আসছেন। তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান পাননি। তিনি আরও জানান আমাদের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫৬০টি পরিবার রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে স্বাধীনতার ৫৫বছরেও বিদ্যুৎতের আলো দেখেনি গ্রামবাসীরা। তাই সরকারের অর্থায়নে প্রতিটি পরিবারে যদি সোলার সিস্টেমের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে অন্তত এই মানুষগুলো অনেক উপকৃত হবে।
কাপ্তাই ৪নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, এই এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নেই। সরকার যদি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করে, তাহলে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগে বাড়ি ভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও টেকসই বিদ্যুতের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপদ পানি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা। পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি জনপদের ৫৬০ পরিবারের দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমন প্রত্যাশা জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় জনসাধারনের। স্বাধীনতার এত বছর পর পাহাড় সমতলের মানুষ যখন এটি জানছেন তখন কেউ কেউ হাস্যকর বললেও অনেকে বলছেন তাদের ভাগ্য কি এতই খারাপ যে তাদের জন্য কোন সরকারই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে পারলো না।