শিরোনাম
বৈষম্য রেখেই অবশেষে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হলোবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে আবারো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার, জড়িতরা অধরাইতোমাদের মেধা ও যোগ্যতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে: মাটিরাঙ্গা ইউএনও মিতুস্বাধীনতার ৫৫বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি কাপ্তাইয়ের কয়েকটি গ্রামমাটিরাঙ্গায় ‘সম্প্রীতি কাপ’ ফুটবল শুরু: প্রথম দিনের ম্যাচ ড্র‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ দীঘিনালায় মাদকবিরোধী র‌্যালিবান্দরবানের রোয়াংছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পিস্তল, গুলি সহ ৫ কোটি টাকার আইস উদ্ধাররামগড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আমন ধানের চারা বিতরণরাঙ্গামাটির লংগদুতে গণ-অধিকার পরিষদের সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বৈষম্য রেখেই অবশেষে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হলো

১২

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দীর্ঘ তিক্ত বিরক্তি আর জলপনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৈষম্য রেখেই অবশেষে পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ পূনর্গটিত হলো। কিছু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হলেও তিন পার্বত্য জেলায় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বড়ুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির বেলায় এবারও বৈষম্য করা হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফসল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গঠিত পরিষদগুলো থেকে পরিপূর্ণতার উপস্থিতি পায়নি পার্বত্যবাসী। কিন্তু বৈষম্যের পরও নির্বাচিত সরকারের অধীন পরিষদগুলো নতুন করে পূনর্গঠিত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ, জাতীয় এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর অনেকেই জানিয়েছেন, সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল জেলা পরিষদ গঠনে পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত সকল সম্প্রদায় থেকে প্রতিনিধি নিশ্চত করা হবে এবং কোন বৈষম্য থাকবে না। তবে প্রায় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হলেও বড়ুয়া জনগোষ্ঠী থেকে কোন প্রতিনিধি দেওয়া হয় নাই এতে করে পরিষদ গঠনে সেই বৈষম্য রয়েই গেল। বড়ুয়া জনগোষ্ঠী থেকে একজন প্রতিনিধি না দেওয়ার কারনই-বা কি তা পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট করা দরকার। অনির্বাচিত হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যাশা অনেক। কেননা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা পরিষদের উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ সহ উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সামাজিক সার্বিক সম্পর্কের উন্নয়ন সাধনে অংশ গ্রহন করা। দেখা যায় এবার রাঙ্গামাটিতে পাংখোয়া ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নাই তারমধ্যে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিতো কখনো-ই দেওয়া হয় নাই। অথচ তারাও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশী। এই জনগোষ্ঠী পার্বত্য এলাকায় সবক্ষেত্রেই বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। বর্তমান সরকারের কাছে আশা থাকলেও সেটাও পূরণ হয়নি।

পার্বত্য মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ যথাক্রমে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পুনর্গঠন করা হয়েছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯; তিন জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৭-এর ১৬ক(৪) উপধারা এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর ৪(২) ও ২(২) উপধারার ক্ষমতাবলে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হলো।

পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ম্রাসা থোয়াই মারমা এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মিজ মাম্যাচিং-কে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ১৪ জন করে সদস্যকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রনালয সুত্র জানায়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী স্ব-স্ব জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ০৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখের ২৯.০০.০০০০.২১৪.১৮.০০২২.২৪-১১৯ নম্বর প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পূর্বের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পুনর্গঠন হওয়ায় তিন জেলার সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনী জটিলতা থাকায় পরিষদগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারছিলনা দীর্ঘ বছর যা এখনো তাই বলবৎ রয়েছে। যখন যে সরকার এসেছেন তখন তাদের মতো করে পরিষদগুলো পূনর্গঠিত হয়ে এসেছে প্রতিবারই বৈষম্য রেখেই হয়েছে। অনির্বাচিত পরিষদগুলো তাদের মতো করেই সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও জনগনের কাছে জবাবদিহিও তেমন ছিল না। এসবের কারনে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে বৈষম্য লেগেই থাকতো। তবে ২০২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে পার্বত্য জেলালার মানুষগুলো ভেবেছিল এবার বৈষম্য আর হবে না। প্রতি সম্প্রদায়ের থেকে একজন কথা থাকলে এখানে কিছু সম্প্রদায়ের অতিরিক্তি প্রতিনিধি করা হয়েছে কিন্তু কয়েকটির নিশ্চিত করা হয়নি। তাই সচেতন মহলেরও আপত্তি বৈষম্য রেখেই পরিষদ গঠিত হলো এই সরকারের আমলেও।