শিরোনাম
সেনাবাহিনীর সহযেগীতায় রোয়াংছড়ির দুর্গম লুংলেই পাড়ায় মিটল পানির সংকটখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনীর মানবিকতায় দুঃস্থরা সুস্থ থাকতে ঔষুধ পেয়েছেনবৈষম্য নয়, তামাশাও নয় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নতুন পরিষদ চায় পার্বত্যবাসীবান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়িতে এবার জব্দ করা হলো প্রায় ৯০ হাজার ইয়াবাখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাপ্রত্যেক অপরাধীর বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালবান্দরবনের লামার ফাইতংয়ে দুই বোনের ভূমি জালিয়াতিতে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ !খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনজুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানজাতীয়তাবাদী দল জনগণের লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করে যাচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

বৈষম্য নয়, তামাশাও নয় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নতুন পরিষদ চায় পার্বত্যবাসী

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং আইনী জটিলতার কারনে তিন জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন সুযোগ নাই। রাজনৈতিক আর সুযোগসন্ধানীদের ঘেঁড়াকলে জনগনের ভোটাধিকারকে স্তব্ধ করে রেখেই জেলা পরিষদগুলো গঠিত হয়ে আসছে। যার কারনে যখন যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে তখন তাদেরই মনোনীতদের দিয়ে পরিষদ গঠন করা হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচীর মধ্যেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো নতুন করে গঠন না করায় পার্বত্যবাসীর মধ্যে যেমন হতাশা দেখা দিয়েছে তেমনি সরকার দলীয়দের মাঝেও ক্ষোভের দানা বাঁধছে।

অপরদিকে জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা মনে করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদ হলো বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় জাতীয়, আঞ্চলিক দল তার ফাঁকে মোটাতাজার সুযোগ সন্ধানীদের জন্য বড় একটি আশ্রয়স্থল। আইনী বাধাবিপত্তীতে নির্বাচন করতে না পারায় লবিং জাম্পিং করে পরিষদ পরিচালনায় যারাই দায়িত্বে আসেন তারা তাঁদের মতো করেই চলেন। এখানে জনগনের যত দূর্যোগই চলুক না কেন, অভিযোগ আপত্তি থাকুকনা কেন এই আশ্রয়স্থল সহজেই ছাড়তে চায় না। তাই জেলা পরিষদগুলোতে মোটাতাজা হওয়ার সুযোগসন্ধানী, দালাল আর মূর্খদের দ্রুত পুঁজিপতি হওয়ার একটা আশ্রয় কেন্দ্রও। দায়িত্ব পাওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে অর্থনির্ভর কিছু গণমাধ্যমকর্মী তাদের গণমাধ্যমে আর রাজনৈতিক প্লাটফর্মে প্রার্থীদের নিয়ে প্রচার আর বহু গুণকীর্তন করা হয়। অনেকে এলাকাবাসী ও দলের নাম দিয়ে রঙ্গীন পোস্টার সাঁটানো হয়। কিন্তু এখানে একবার দায়িত্ব পেয়ে চেয়ারে বসার সাথে সাথে জনগনকে ভুলেই যায়। এটারও কারণ হলো জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচন না হওয়ায় বড় একটা সুযোগ।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিজ্ঞ সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, জেলা পরিষদগুলোর দায়িত্ব হলো জনগনের দেখভাল এবং উন্নয়নে পিছিয়েপড়াদের এগিয়ে নিয়ে আসা। কিন্তু যখন যারাই দায়িত্ব নেন তাদের অনেকেই দলীয়, অর্থ আর ক্ষমতায় মোটাতাজা হওয়ার ধান্ধায় থাকার কারনে জনগনের সুষম উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্তই থাকছে। তার মধ্যে বৈষম্য-শ্রেণী বিভক্ত, প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজ ব্যবস্থাকেও গিলে খাচ্ছে। জুলাই-২৪ এ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকারকে বিতারিত করে দেশের মানুষ। বৈষম্য, নৈরাজ্য, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে তাদের পরিস্থিতি এমনই হয়েছে। কিন্তু এবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও শহীদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় এসেছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবনের প্রার্থীদের জনগন স্তস্ফুতভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। তারমধ্যে পার্বত্য রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনে অ্যাড. দীপেন দেওয়ান (ধানের শীষ)কে দুই লক্ষ এক হাজার পাঁচশত চুয়ান্ন ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে মন্ত্রীর সম্মান এনেছেন। তিনি শুধু তিন জেলাতে নয় পুরো দেশের অন্যান্য প্রার্থীদের চাইতে সর্বোচ্চ ভোট দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন তার মানে রাঙ্গামাটি জেলাবাসী বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদদের বুঝিয়ে দিয়েছেন জনগন চাইলে কি না করতে পারে।

তবে সরকারি দলের বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেও প্রত্যাশিত সম্মান অধিকার পাচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করছেন। দুই লক্ষের অধিক মানুষ ভোট দিয়েছে অথচ তাদের অধিকার বা সম্মানের কথা না ভেবে এবং সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসুচীর শেষ না করেই পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। যার কারনে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পরিষদ এখনো বহাল রয়ে গেছে। তাঁর পদত্যাগের কারনে বিগত সময়ে দলীয় ত্যাগী, মামলা হামলার শিকার নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার, আবদার, আশা আখাঙ্খা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে জনগনের সাথে আলোচনা না করেই মন্ত্রীর পদ থেকে সরে গিয়ে কোন ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। দলের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এখন বলছেন জনগনের ক্ষমতা লালন পালনে রাজনৈতিক পলিসি প্লেতে ধৈয্যের না হলে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা মুশকিল।

এদিকে জেলা পরিষদগুলোতে নির্বাচিত সরকারের নতুন পরিষদগুলো গঠন না করে মন্ত্রী পদত্যাগ করাতে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ এখনও হতাশ। আইনী জটিলতায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন এসব পরষিদগুলোতে জনগনের ভোটাধিকার প্রয়োগ বন্ধ রয়েছে বহু বছর। এরপরও এসব পরিষদে কোন সময়ই নির্দলীয় নিরপেক্ষ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয় নাই। এবার পরিষদগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের মনোনীত প্রতিনিধির অধিকাংশ নির্দলীয় কিন্তু জনগনের সেবাখাতে তাদের ভালো অর্জনও কম। নির্বাচিত সরকারগুলো জেলা পরিষদের মনোনীত পরিষদ করতে গিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ ব্যক্তি না থাকায় পার্বত্যবাসীদের সাথে যেন তামাশাই করা হয়েছে। বহু ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিজম বিদায় করে দেশের ছাত্রজনতা গণতন্ত্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এনেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে দাবি পরিষদগুলোতে সকল সম্প্রদায়ের উপস্থিতি। নিরপেক্ষ এবং দলীয়দের সমন্বয়ও থাক কিন্তু বৈষম্য নয়, তামাশাও নয় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নতুন পরিষদ চায় পার্বত্যবাসী।