শিরোনাম
রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারিচাঁদাবাজী ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে লংগদুতে সংবাদ সম্মেলনসাজেকে যৌথবাহিনীর প্রচেষ্টায় বাঘাইহাট টু সাজেকে যানচলাচল স্বাভাবিকরাঙ্গামাটির লংগদুতে দিনব্যাপী কৃষক সার্টিফিকেট প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিতবান্দরবনের লামায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিতকালবৈশাখী ঝড়ে মাটিরাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণসেনাবাহিনীর তেজস্বী বীর লংগদু জোনের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনপ্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মানুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দরোয়াংছড়িতে শ্রমিকদলের মহান মে দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে মোঃ অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক ও গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে বলেও জেলা ছাত্র দলের কমিটি সুত্র জানিয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ আট বছর পর রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্র দলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর এবার পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীর রোষানলে পড়েছে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ। বঞ্চিতরা এ কমিটি বাতিলের দাবিতে রবিবার (৩মে) সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল করে পরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে দুই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। পরে দেড়টার দিকে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের আশ্বাসে অবরোধকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে বঞ্চিত ছাত্ররা সোমবার (৪ মে) দুপুরে আবারো বিক্ষোভ করলে দুই দলের মধ্যে মারামারি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয় এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।

জানা গেছে, পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পৌরসভা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও সড়ক অবরোধের কারণে এসময় দুইপাশে শতশত যানবাহন সহ স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবক, পথচারীরা আটকা পড়ে। পদবঞ্চিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে বলেন, বিবাহিত, চাঁদাবাজ, অপহরণকারীদের টাকা ও গিফটের মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি ঘোষণা না দিলে হরতালেরও হুমকি দেয় নেতাকর্মীরা। তবে ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি নূর তালুকদার মুন্না, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর জাভেদ, যুগ্ম সম্পাদক মোখতার আহমেদ, পারভেজ হোসেন সুমন ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল আহাদকেও বিক্ষোভের সময় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেছেন, রাজস্থলী থেকে এনে যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি জেলার নেতাকর্মীদেরও চেনেন না। তাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন অভিযোগ করে বলেছেন, টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে কমিটি গঠনের তথ্য তারা পেয়েছেন। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত ছাত্রদের নিয়েই কমিটি করতে হবে। তাই বর্তমান কমিটি বাতিলের দাবিও জানান। এনিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা বিএনপির নেতারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবির বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে ছাত্র দলের নতুন কমিটির সভাপতি অলি আহাদ বলেছেন, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যারা পদ পায়নি, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তবে সবাইকে সংগঠনের শৃঙ্খলা মেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

সোমবারও আবারো অলি আহাদের ঐ কমিটি বাতিলের দাবিতে সকাল থেকে বিক্ষোভ করলে শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা। এসময় বিএনপির জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলের বঞ্চিত ছাত্ররা। পরে অলি আহাদ এর সমর্থিতরা তাদের মিছিল নিয়ে আসলে শুরু হয় চরম উত্তেজনা এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। কেউ কেউ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ককটেল ফাটিয়ে ভীতির সৃষ্টি করলে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এসময় উভয় দিকের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অপর দিকে এ ঘটনা চরম আকার ধারণ করতে গেলে পরে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি দল তাৎক্ষনিক এসে উভয় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আটকে যাওয়া যানবাহনগুলো চলাচল করেত শুরু করে এবং পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হয়। এরপরও ঘটনা পুনরাবৃত্ত যাহাতে না ঘটে তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রে শহরের বনরূপার একাংশ থেকে রাঙ্গামাটি পৌরসভা এলাকায় পরবর্তী নর্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।