॥ লংগদু উপজেলা প্রতিনিধি ॥
রাঙ্গামাটির লংগদুতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এক সাধারণ নাগরিক উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তবে সংবাদ সম্মেলন করার পরে বাড়ি ফিরে গেলে সেখানেই আবারো হমলার শিকার হয়েছেন ঐ ভুক্তোভুগি সাধারণ নাগরিক। সোমবার (৪ মে) লংগদু উপজেলা প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নুর নবী ও তার পরিবার।
সোমবার প্রেস ক্লাবে হাজির হয়ে লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর নবী (৩১) ও তার স্ত্রী সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর পরে আবার বাড়িতে ফিরে গেলে আবারও হামলার স্বীকার হয়।
এদিকে সোমবার (৪ মে) লংগদু উপজেলা প্রেসক্লবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নুর নবী (৩১), পিতা মৃত আবু তাহের জানায়, গুলশাখালী ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল ও বিএনপি নেতা সাকিল কিছু দিন আগে রাতে আমার বাসায় এসে আমাকে বাইওে ডেকে নিয়ে জোর করে যে, নুর আলমের ইয়াবা খাওয়ার ভিডিও ধারণ করে দিতে। মোফাজ্জল ও সাকিল আমাকে বলে তুমি যেহেতু মোটরসাইকেল চালাও, মোটরসাইকেল অফিসে আমার ভাই নুর আলম ইয়াবা খায় তুমি ঐ ভিডিও করে দাও। পারবোনা বলে জানিয়ে দেই,তখন মোফাজ্জল আমাকে গায়ে হাত রেখে বলে একটু পাশে আসো কথা বলি। আমি যখন একটু দুরে যাই একটু পরে সাকিল মোফাজ্জলকে ডাক দিয়ে বলে নুর নবীর গাড়িতে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এটা বলে কিছু ইয়াবা আমার হাতে দিয়ে ভিডিও ধারণ করে এবং বলে যে এখন যদি আমার ভাইয়ের ভিডিও করে না দাও তোমাকে পুলিশে দিবো। এছাড়াও সে নিজেকে বিভিন্ন বাহিনীর সোর্স দাবী করে বলে আমি যা বলি সবাই তাই করে। তোকে ফাঁসাতে ১মিনিটও সময় লাগবেনা।
ভুক্তভোগী নুর নবী আরো বলেন, পরবর্তীতে আমি ভয় পেয়ে তাদের কথায় রাজি হই। সাকিল আমাকে একটি মোবাইল দিয়ে বলে তোমার পকেটে করে মোবাইলটা নিয়ে ক্লাবে ডুকবা, ওরা যখন ইয়াবা খাবে তাদের সোজা থাকবা পরে চলে আসবা। আমি তাদের কথা মত কাজ করি, আর মোবাইল আবার ফিরে এসে তাদের দেই। কিন্তু এরপর তারা দুজন আমার সাথে আবার খারাপ আচরণ শুরু করে বলে টাকা লাগবে দুই লাখ না হয় তোকে পুলিশের কাছে ধরাই দিবো। তখন ঐসময়ই আমার গাড়ি বিক্রি করে তাদেরকে এক লাখ টাকা ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ভিডিওর ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে আমার কাছ থেকে আরো ৮০ হাজার টাকা তারা নেয়। সর্বশেষ আমার ৫বছর বয়সী মেয়ের কানের ফুল বিক্রি করে তাদের ৬ হাজার টাকা দেই। এরপর বারবার টাকা দাবী করে, টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, আমি জীবন বাঁচাতে আজ ২০দিন যাবত পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম অবস্থান করি। এর মাঝে তাদের অত্যাচারে আমি আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেই। তখন আমার পরিবার আর ছোট মেয়ের দিকে তাকিয়ে ফিরে আসি। আমি এখন আমার বাড়িতে থাকতে পারছিনা। আমি আপনাদের মাধ্যমে আমার সাথে হওয়া অত্যাচারের সুষ্ঠু বিচার চাই প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, দ্রুত সময়ে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।