শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীবাঘাইছড়িতে অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ জব্দবান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষওমাটিরাঙ্গায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি লিচুর মৌ মৌ গন্ধে মুখর বাজার এলাকাচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ

বান্দরবনের থানচির সাঙ্গু নদীর চরে বালুখেকোদের দৌরাত্ম্যে হুমকীতে পরিবেশ

১০

॥ চিংথোয়াই অং মারমা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদীর ভাসমান বালুচরে অবাধে চলছে লুটপাট। প্রভাবশালী চক্র ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে দিনে বেলায় ও রাতের অন্ধকারেও বালু উত্তোলন এবং মজুদ করে পাচার করে আসছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে গা ঢাকা দিলেও পরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে বালুকান্ডে জড়িতদের সিন্ডিকেট। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশ এবং আশপাশের জনপদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতবর্ষা মৌসুমে সাঙ্গু নদীর বুক চিরে বালু উত্তোলন করে আশেপাশে জমির বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়। পরে সুযোগ বুঝে রাতের-আঁধারে এসব বালু ট্রাকযোগে বিক্রয়ের জন্য পাচার করে আসছেন প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা। এই লাগামহীন বালু লুটের কারণে এখন নদীর তীরভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। তারমধ্যে ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী পাড়া এলাকা, সেগুনবাগান এলাকা ও মসজিদের পাশে শতশত ফুটের বালু জুদ করে রাখা রয়েছে। জিনিঅং পাড়াঘাট, নারিকেল পাড়া যাওয়ার সড়কে ও মনাই পাড়াঘাট, ডাকছৈ পাড়া এলাকায় এবং নদের চরে বিভিন্ন পয়েন্টের বালু উত্তোলন করে স্তুপ করেছে কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর চরে জমিগুলোতে বিভিন্ন পয়েন্টে বালু স্তুপ রয়েছে। পরে যা সুবিধামতো কওে বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দারা জানান, বালু উত্তোলনের ফলে বাড়ছে নদীর চরে ভাঙন। বর্ষা মৌসুমে পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক গভীরতা নষ্ট হওয়ায় স্্েরাতের গতি বদলে যাচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়ছে।

সচেতনমহল বলছেন, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা বা সাময়িক অভিযান দিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ, নিয়মিত মনিটরিং এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। অন্যথায় সাঙ্গু নদের স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালু উত্তোলন চক্রের এক সদস্য জানান, যেটি বালু স্তপ-মজুত আছে, সেটিই গতবছরের উত্তোলন করা। কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন নেই। মাঝেমধ্যেই উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে কয়েকট্রাক বিক্রি করেছে, তাদের অন্তত ৩ থেকে ৪টি সংঘবদ্ধ দল এই অবৈধ কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছে।

অন্যদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস এর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সাচিনু মারমা জানান, সাঙ্গু নদের প্রকাশ্যে অবাধে চলছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন। কিছু কুচক্রী মহল মুনাফার জন্য প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। অবাধে গাছও কেটে ফেলছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনসহ সচেতনমহল ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সাঙ্গু নদীসহ সারাদেশে সকল নদী দখল, দূষণ মুক্ত এবং পাহাড়ের প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা করা সম্ভব।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, বালু উত্তোলন বা মহাল রাখার কোনো অনুমোদন নেই। অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এধরনে অভিযান ভবিষ্যৎতেও অব্যাহত থাকবে।