শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

বান্দরবনের থানচিতে নতুন ভবন নির্মাণে ধীরগতি, ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে চলছে পাঠদান

১১

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
সরকারি অর্থ বরাদ্দ আর মেয়াদ বৃদ্ধি সবই হচ্ছে, হয়নি শুধু ভবন নির্মাণে কাজের শেষ। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবনে ওঠা হয়নি বান্দরবানের থানচিতে টুকটংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ফলে নয় বছর ধরে পুরোনো টিনশেডে ঝুকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে বসে চলছে পাঠদান। স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণে দ্রুত সম্পন্ন করতে দাবির জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, খণ্ডকালীন গতিতে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ চলছে। দরজা–জানালা, রেলিং, আসবাবপত্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কাজের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে মন্থর রাখা হচ্ছে—নির্ধারিত সময় মানার কোনো চেষ্টা নেই। বরং বারবার সময় বাড়ানোই যেন সংশ্লিষ্টদের নিত্য অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলা স্কুল ভবন নির্মাণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন। বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—বান্দরবানের মিল্টন ট্রেডার্স।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক ৬৪ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ভাঙাচোরা বেড়ার ঘরে চলছে পাঠদান। নেই নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারও নেই। সামান্য বাতাস উঠলেই ধুলাবালুর মধ্যে গাদাগাদি করে পড়ছে শিক্ষার্থীরা— যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম গুণগত শিক্ষার পরিপন্থী।

এদিকে অভিভাবক মাংসান ম্রো, টিমপাও ম্রো, মেনডং ম্রো:সহ অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ চার বছরেও সম্পন্ন হয়নি নতুন ভবন নির্মাণে কাজ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পাহাড়ের শিশুদের শিক্ষা আরও পিছিয়ে পড়বে—এ দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা গুংগাবি ত্রিপুরা জানান, ২০০৮ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে জাতীয়করণ হলেও এরপর প্রশাসনিকভাবে সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ঠিকাদার সংস্থা মিল্টন ট্রেডার্সের ম্যানেজার মোঃ খোকন আহম্মেদ জানান, ভবনের নির্মাণসামগ্রীর দাম ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরগতিতে কাজ চালাতে হচ্ছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন বছরে শুরুতে শেষ করা কথা, কিন্তু কাজ ধীরগতি কারণে স্কুল ভবন নির্মাণে সম্পন্ন করতে লক্ষ্য দেখছি না।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ আবু হানিফ জানান, সময়সীমা পেরোলেও ঠিকাদার কাজ শেষ করেনি—তাগাদা দিয়েও সুফল মিলছে না। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।