শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবনের থানচিতে উন্নয়ন হয়েছে কাগজে, বিশেষ প্রকল্পের খাদ্যশষ্য লুট !

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের গরীব ও অসহায় কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি কাজের সুবিধার্থে কৃষি সামগ্রীর বিতরণ প্রকল্প এবং দু:স্থ পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচনের নিমিত্ত গাভী পালন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই প্রায় ২০ মেট্রিক টন সরকারি চাল লুটপাটে চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের নামে সরকারি বরাদ্দ কাগজে-কলমে দেখিয়ে বাস্তবে নিজের পকেট ভারী করছেন। ফলে সরকারি সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত দরিদ্র, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পরিবারগুলো।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিশেষ প্রকল্প কর্মসূচীর আওতায় খাদ্যশস্য বরাদ্দের প্রদানে থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই চালের কোনো হদিস নেই।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোথাও কৃষি সামগ্রী বিতরণ, গাভী প্রদান কিংবা উপকারভোগী তালিকার কোনো অস্তিত্ব নেই। কাগজে-কলমে প্রকল্প থাকলেও মাঠপর্যায়ে নেই কোনো বাস্তবায়নের চিহ্ন। চলতি অর্থবছরে মন্ত্রণালয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিষয়ে জানেন না ইউপি সদস্যরাও।

এদিকে ওয়াচাকু পাড়ার বাসিন্দা ছারাক্ক ম্রো (৪৭), ক্রিনক্লা ম্রো (৪৫) জানান, তাদের পাড়ায় নিচ ও উপরে মিলে প্রায় ৪০টি পরিবারের বসবাস। চলতি অর্থবছরে সরকারি সহায়তা কোনো গাভী বা কৃষি সহায়তা তারা কেউই পাননি। একটি পরিবার নিজ উদ্যোগে গরু পালন করত—সরকারি কিংবা সংস্থার থেকে কোনো গাভী পাননি।

থানচি সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ডেবিট ত্রিপুরা বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই তিন মাসে আমার ওয়ার্ডে মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দের বিষয়েও কিছুই জানেন না তিনি। উপজেলা সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হ্লাহ্লায়ী মারমা বলেন, চলতি অর্থবছর বা নতুন বছরে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দের সম্পর্কে আমাদের জানানো হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভাতেও কোনো আলোচনা করা হয়নি। আমরা কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো: বলেন, এসব প্রকল্পের দিকে নজর পড়লে পাপ হবে। কারণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পে ১৬ শতাংশ ও জেলা পরিষদের ৬ শতাংশ দিতে হয়। আমার গ্রামের দুইটি অসহায় পরিবারকে দুইটি গাভী দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাগজে সফলতা, বাস্তবে কিংবা মাঠে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ এমন লুটপাট আর কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, বরাদ্দকৃত চালের হিসাব প্রকাশ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতনমহল।