শিরোনাম
বান্দরবানের লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে রোগী অথচ কমছে বরাদ্দ ও জনবলকৃষকের স্বার্থে ডিজিটাল উদ্যোগ মাটিরাঙ্গায় শুরু কৃষক কার্ড কার্যক্রমমানিকছড়িতে আজকের প্রজন্ম’র ১৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩৯হাজার টাকার সার আটককাপ্তাইয়ে ইউরিয়া সার সহ ট্রাক জব্ধ করেছে বিজিবি সদস্যরাসরকার উৎপাদন বাড়ানোর উপায় বের করবে কেপিএম বন্ধ করবে নাবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে এবা র‌্যাবের অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা সহ আটক-১কাপ্তাইএ আটকে পড়া চার পর্যটককে উদ্ধার করলো ফায়ার সার্ভিস টিমচেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপুতে ধন্য, বিএনপির বর্ণাঢ্যে বরণ ও দায়িত্ব গ্রহনবান্দবানের লামা উপজেলাকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি

কৃষকের স্বার্থে ডিজিটাল উদ্যোগ মাটিরাঙ্গায় শুরু কৃষক কার্ড কার্যক্রম

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক ও প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাটিরাঙ্গার গড়গড়িয়া নাল, গোমতী ও বান্দরছড়া এই তিনটি কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ডের কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৩৯৩ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের খাগড়াছড়ি জেলা উপ-পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দীন চৌধুরী উপস্থিত থেকে ১৬ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য কৃষকদের অনুমোদন দেবে। কৃষক কার্ডের আওতায় নিবন্ধিত হলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি কৃষি সহায়তা আরও সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনাসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জানান, কৃষক কার্ড চালু হলে প্রকৃত কৃষকরাই সরকারি কৃষি সহায়তার সুবিধা পাবেন। এতে কৃষকদের মধ্যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে অনিয়ম কমবে এবং কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি কৃষকরা ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এগুলো হলো, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

কার্যক্রম প্রসঙ্গে মাটিরাঙ্গা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবদিন বলেন, প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকরা সার, বীজ, কৃষিঋণসহ সরকারি প্রণোদনা ও সুবিধা সরাসরি পাবেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং একটি স্বচ্ছ কৃষি তথ্যভান্ডর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নের যোগ্য কৃষকদের ডিজিটাল কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাটিরাঙ্গার প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন। এতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির দিকে মাটিরাঙ্গার কৃষি খাত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।