॥ মোঃ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
এ যেন আলোর নিচেই অন্ধকার। যেখানে স্বল্প মূল্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয় এবং ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হয় সেখানে বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষা চরম ব্যাঘাত ঘটছে। টানা লোড শেডিং এর কারনে উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা তাদের পড়ালেখা নিয়ে চরম বিপদে পড়েছে।
শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কাপ্তাই উপজেলায় গড়ে ১২/১৪ঘন্টা বিদ্যুৎতের লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তার মধ্যে সারা দেশের ন্যায় কাপ্তাই উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়া লেখায় চরম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী পাভেল হোসেন, শারমিন জাহান জানান, রাতে কিংবা দিনে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। আর এববার চলে গেলে আসার কোন খবরও থাকেনা। যার ফলে প্রচন্ড গরমে পড়ালেখা হয়না। আমরা জানিনা পরীক্ষায় ফলাফল কি হয়। অভিভাবক ফিরোজ মিয়া, সলেমান হোসেন গভীর উদ্বেগ ও হতাশ প্রকাশ করে তারা জানান, প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হওয়ার কারনে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে পারছে না। আমরা চাই পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্তত লোডশেডিং যেন না দেখায়।
এছাড়াও লোডশেডিং এর ফলে সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা, শিল্প কলকারখানা, ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে চরম বিপর্যয় চলছে। কয়েক’টি কারখানা মালিক জানান, নির্দিষ্ট সময়ে পন্য সরবরাহ করতে না পাড়ায় অর্ডার বাতিল হচ্ছে। ফলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে ২৩০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে ন্যাশনাল গ্রিডে যুক্ত হয়। সেখান এখন হ্রদে পানি স্বল্পতার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট। পরিপূর্ণ পানি থাকলে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় আর সেখানেই ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় উপজেলাবাসীকে। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার।
কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) লোডশেডিং এর কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের দুটি লাইন এর মধ্যে একটা বন্ধ করে আবার একটা চালু করা হয়। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কোন সমস্যা বা লোডশেডিং হবেনা বলে জানান। তবে এ সমস্যা বেশিদিন থাকবেনা বলেও উল্লেখ করেন এই প্রকৌশলী।