শিরোনাম
বর্ণিল আয়োজনে কাপ্তাইয়ে বৈশাখ বরণ, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানহাসপাতাল নিজেই মাটির সাথে ল্যাপ্টে পড়ে আছে, সেবা বঞ্চিত ২০ হাজার মানুষখাগড়াছড়ির দিঘীনালায় বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখী’র আনন্দ শোভাযাত্রাপাহাড়ি ও বাঙালির সম্মিলিত অংশগ্রহণ সত্যিই প্রশংসনীয়: ব্রিগেডিয়ার নুরুল আমিনরাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির বৈসু উৎসবে নদীতে ভাসানো হয়েছে ফুলবাঘাইছড়ির বাঘাইহাটস্থ এতিমখানায় সেনাবাহিনীর খাদ্যদ্রব্য বিতরণপার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী উৎসাহ-উদ্দীপনায় উৎসব পালন করছেদীঘিনালায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রদানমাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগ জনগণের মাঝে ইতিবাচক সাড়াপ্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী তাদের স্ব-স্ব নামেই সামাজিক এই বৃহৎ উৎসব পালন করবে: পার্বত্য মন্ত্রী

হাসপাতাল নিজেই মাটির সাথে ল্যাপ্টে পড়ে আছে, সেবা বঞ্চিত ২০ হাজার মানুষ

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
বান্দরবানের লামা উপজেলার ১নং ‘গজালিয়া ইউনিয়ন। ১৯৮৩ সালের পূর্বে লামা উপজেলা যখন মহকুমা ছিল, তখন গজালিয়া ইউনিয়নটি থানা ছিল। পরবর্তীতে লামা মহকুমা ‘উপজেলায়’ রূপান্তর হলে ‘গজালিয়া’ থানা থেকে ইউনিয়নে রূপান্তরিত হয়। গুরুত্ব, জনসংখ্যা ও আয়তন বিবেচনায় গজালিয়াকে লামা উপজেলার ১নং ইউনিয়ন করা হয়। যদিও গজালিয়াকে ভেঙ্গে পরে সরই ও আজিজনগর স্বতন্ত্র ২টি ইউনিয়নর করা হয়েছে।

বর্তমানে গজালিয়া ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের রাষ্ট্র থেকে পাওয়া অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এই ইউনিয়নের মানুষ। ইউনিয়ন সদরে বাজারের পাশে সরকারি খাস জমিতে একসময় গজালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি থাকলেও গত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে অবহেলা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা পরিণত হয়েছে গো-চারণ ভূমিতে। কত সরকার এলো গেল কিন্তু কেউই ভাবেনি এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা।

গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকাশ হোসাইন বলেন, সরই আমাদের অনেক পরের ইউনিয়ন হলেও সেখানে ১০ শয্যা মা ও শিশু হাসপাতাল হয়েছে। কিন্তু আমরা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত। গজালিয়া বাজার পাড়ার বাসিন্দা মোঃ জহুর আলী বলেন, গজালিয়াতে কোন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার গাড়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না। তাই এখানকার মানুষ গুলো চিকিৎসা সেবা নেওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করে। মানিকজন পাড়ার বাসিন্দা সজারাম ত্রিপুরা বলেন, এত উন্নয়ন হয় কিন্তু গজালিয়া হাসপাতাল টা উন্নয়ন হয়না, কারণ কি ? আল আমিন হোসেন বলেন, এত বড় একটা ইউনিয়ন, কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রই নাই।

গজালিয়া বাজার পাড়ার আরেক বাসিন্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম বলেন, গজালিয়া স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ। স্বাস্থ্য বিভাগ কেন বিষয়টি ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। আমরা বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন মহোদয়, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা একটি হাসপাতাল চাই। সমাজসেবক মুহাম্মদ মুসা বলেন, গজালিয়া ইউনিয়নে একটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি করে গত ৩০ জুন ২০২৫ইং আমি নিজে বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বরাবর লিখিত দরখাস্ত করেছি। দরখাস্তে বান্দরবান জেলা পরিষদের দুই সদস্য এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম ও খুরশিদা ইসহাক সুপারিশ করেছেন। আবেদনটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই সিভিল সার্জনকে মার্ক করে দেন। কিন্তু এখনো কোন কার্যক্রম দেখছিনা। ২০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, গজালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র একটি রয়েছে। সেটা লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড টিটিএন্ডডিসি গ্রামে অবস্থিত হওয়ায় ইউনিয়নের লোকজন সেবা পাচ্ছেনা। আমরা মাঝেমধ্যে মোবাইল টিম করে গজালিয়া বাজারে সেবা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে তা অপ্রতুল। ইউনিয়ন সদরে হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক লামা উপজেলা পরিষদ মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, দ্রুত এই বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং জেলা মিটিংয়ে আলোচ্য বিষয় হিসাবে তুলে ধরবো। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে গজালিয়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।