রাঙ্গামাটিতে বিহারে বিহারে মাঘীপূর্ণিমা পালন
॥ দেবদত্ত মুৎসুদ্দী গোপাল)
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য মাঘী পূর্ণিমা এক বিশেষ পুণ্যময় দিন। এ দিনেই ভগবান গৌতম বুদ্ধ তাঁর শিষ্য শিষ্যাদের কাছে তাঁর মহাপরিনির্বাণ (প্রয়াণ) এর ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দিনটি বৌদ্ধ জাতির কাছেও ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। দিবসটি পালনে দেশ-বিদেশে বিহার, প্যাগোডা, জাদী গুলোতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হযে থাকে।
শুভ মাঘী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম একটি তাৎপর্যময় পূর্ণিমা তিথি। মাঘী পূর্ণিমা তিথিকেও কেন্দ্র করে তথাগত গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এই পূর্ণিমার দিনেই বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশের বৈশালীর চাপাল চৈত্যে বুদ্ধ নিজেই তাঁর মহাপরিনির্বাণ লাভের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। যাকে বৌদ্ধ পরিভাষায় বলা হয় ‘আয়ু সংস্কার’। আয়ু সংস্কারের পরিবর্তে অনেকে আয়ু বিসর্জনও বলে থাকেন। বৌদ্ধরা পুণ্যময় এই দিনকে পাঠ্টান পাট, সূত্র শ্রবণ, পঞ্চশীল পালন, অষ্টশীল পালন, বুদ্ধপূজা দান, সংঘদান, বিহারে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোকসজ্জা, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, প্রাণী অবমুক্ত করণ, আহার দান, দেশ ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করে থাকেন।
এই দিনে বুদ্ধ নিজের মহাপরিনির্বাণ লাভের দিন ঘোষণার পাশাপাশি আরও একটি ঘটনা হলো মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ ভিক্ষুসংঘকে ‘প্রাতিমোক্ষ উদ্দেশ’ উপদেশ দিয়েছিলেন। ‘প্রাতিমোক্ষ’ হলো বৌদ্ধভিক্ষুদের নিত্য প্রতিপালনীয় বিনয়-বিধানসংবলিত একটি গ্রন্থ। বিনয় পিটকের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে চয়ন করে গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে।
মাঘী পূর্ণিমা দিবসটি বৌদ্ধদের কাছে খুব একটা আনন্দের দিন নয়। গৌতম বুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছিলেন আমি তিন মাস পর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব (মহাপরিনির্বান লাভ) এটা বুদ্ধকে হারানোর একটি দিন। কারণ, বুদ্ধ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে মহাপরিনির্বাণ লাভ করলেও এর সূচনাটা হয়েছিল মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে। জাতি ধর্মনির্বিশেষে সবাইকে শুভ মাঘী পূর্ণিমার মৈত্রীময় শুভেচ্ছা জানাই। কামনা করি জগতে সকল প্রানী সুখী হোক দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করুক।