পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় উৎসবগুলো আমাদের ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়
॥ কাপ্তাই উপজেলা প্রতিনিধি ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, এমপি, বলেছেন পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সামাজিক উৎসবগুলো কেবল আনন্দ আয়োজনের মাধ্যম নয়, বরং এগুলো ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বুধবার (১৫এপ্রিল) সকালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিংমরম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা (জল উৎসব) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐহিত্যকে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক উথোয়াই মং মারমার সভাপতিত্বে ও সানুচিং মারমা এবং সাচিং উ মারমার সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যর মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্রো,সাইফুল ইসলাম পনির,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয় মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব রবীন্দ্র চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কাপ্তাই সার্কেল জাহেদুল ইসলাম, রাজস্থলী সার্কেল এএসপি নুরুল আমিন, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ, সম্পাদক মোঃ ইয়াছিন মামুনসহ সরকারী বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আরো বলেছেন, এবার পার্বত্যাঞ্চলে ১১টি জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায় অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসবগুলো পালন করেছে। স্ব স্ব সম্প্রদায় তাদের স্ব স্ব নামে এ উৎসব পালন করেছে। এর ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে আমাদেরকে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবগুলো আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতীক। এই সংস্কৃতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। সকলে মিলে মিশে সকল জাতিসত্তার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাকে রাঙ্গামাটি তথা কাপ্তাই উপজেলাবাসি বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সাংগ্রাই হলো মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে সকল ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে।
চিংমরম বৌদ্ধ বিহারে মাঠে অনুস্টিত সাংগ্রাই জল উৎসব যেন প্রাণের উৎসব, উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজার দর্শক, পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করে আসছেন মাহা: সাংগ্রাই রি লং পোয়ে বা সাংগ্রাই জল উৎসব। যুবক যুবতীরা একে অপরকে পানি ছিটানো মাধ্যমে সকল দু:খ গ্লানি বেদনাকে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
সাংগ্রাই জল উৎসবে অংশ নিতে আসা মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ তরুণীরা বলেন, আজ আমরা সাংগ্রাই উৎসবে এসেছি জল ছিটাতে। পুরাতন বর্ষকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব। ১৫ এপ্রিল মূল সাংগ্রাই জল উৎসব হলেও গত ১৩ এপ্রিল হতে বিহার প্রাঙ্গনে বসেছে বৈশাখী মেলা। ব্যবসায়ীরা নানা প্রকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন চিংমরম বৌদ্ধ বিহার মাঠে। এছাড়া নববর্ষকে ঘিরে বিহারে দায়ক দায়িকারা বৌদ্ধ পুজা, বৌদ্ধ মূর্তিকে স্নান, বয়স্কদের স্নান করানো সহ নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করেছেন।
এছাড়াও হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটেছে। ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ গান পরিবেশনার পাশাপাশি মাঠের একপাশে মারমা তরুন তরুনীরা জল খেলায় মেতে উঠেন। এছাড়া এদিন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ছাড়াও সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা বের করা হয়।