প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েও বান্দরবনের থানচিতে বিশিুদ্ধ পানির সংকট
॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পটি চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। নির্ধারিত অর্থবছরের মেয়াদ শেষ হলেও হাউস নির্মাণ ও পানি সরবরাহ লাইনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন থানচিবাসী। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে দ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, পানি হাউস নির্মাণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রকল্পটি চালু হলে থানচি সদরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নিরাপদ পানির আওতায় আসবে। এতে করে দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে।
জানা গেছে, থানচি বাজার এলাকাজুড়ে নিরাপদ পানির আওতায় আনতে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রায় ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ইউটি মং প্রতিষ্ঠানের অধীনে ঠিকাদার আবুল কালাম সেন্টু ও চিংথোয়াই মারমা প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক কিছু অগ্রগতি হলেও পরে ভূমি বিরোধসহ নানা জটিলতায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টিএনটি পাড়ার সংলগ্নে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত পানির হাউস ও পাইপলাইন অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও যন্ত্রাংশে মরিচা ধরেছে, আবার কিছু স্থানে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ প্রকল্পের পানির হাউস আছে, কিন্তু পানি নেই এতে চরম দুর্ভোগে থানচিবাসী।
এদিকে টিএনটি পাড়া ও বাজারসহ আশেপাশের লোকজনরা বলছেন, সারাবছর জুড়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে কাজ করে দেখেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে পানির সংকটে ভুগতে হচ্ছে তাদের। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ঝর্ণা থেকে পানি সংগ্রহ করতে কষ্টসাধ্য। পাহাড়ের চূড়ায় পানির হাউস নির্মাণের সময় নতুন আশার সঞ্চার হলেও চার বছরেও তা চালু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে।
অন্যদিকে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, নদী ও ঝিরিই তাদের একমাত্র ভরসা, যা শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শুকিয়ে যায়। অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের কারণে অনেক টিউবওয়েল, রিংওয়েল ও জিএফএস প্রকল্প মৌসুম শুরুর আগেই অকেজো হয়ে পড়ে। এতে করে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) স্বপন চাকমা বলেন, আমি দায়িত্ব না পাওয়ার আগে পানি হাউস নির্মাণে প্রকল্পটি কাজ শুরু করেছিল। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনের আগেই পানি সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, পানি হাউস ও পাইপলাইনে নির্মাণে কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছি। এলাকার জনস্বার্থে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে অনুরোধ জানানো হয়েছে।