রাঙ্গামাটিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন, পতাকা উত্তোলন করেনি বহু প্রতিষ্ঠান
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে সিপাহী জনতার ডাকে জিয়াউর রহমান যদি দেশ শাসনের দায়িত্ব না নিতেন তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতো। সিপাহী জনতা সেদিন তাঁকে রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে বেচে নিয়েছেন বলেই আজকের বাংলাদেশ আমরা দেখতে পাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ কারো একক বা একটি গোষ্ঠির যুদ্ধ ছিল না। ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার (৭নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত সভায় মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এঁর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, পুলিশ সুপার, ডা. নূয়েন খীসা, সিভিল সার্জন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, মোহাম্মদ রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), নিশাত শারমিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন, সদস্য, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন, স্বায়ত্ত্ব¡শাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা পবিারের সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি, দীপন তালুকদার দিপু বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বহু ত্যাগ আর কষ্টের বিনিময়ে আজকে এতদুর পর্যন্ত আশা আমরা চাই সবাইকে নিয়েই দেশের শান্তি ও উন্নয়নে কাজ করতে। সিপাহী জনতার ৭ই নভেম্বর ঐতিহাসিক একটি বিপ্লব। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ৪৭ সালে দেশভাগের পর এদেশের সকল নাগরিকের যে অবদান স্বাধীনতা অর্জন এবং তার পরবর্তী সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সিপাহী জনতা সংগ্রাম আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তিনি বলেন, আজকে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের সকারের একটি গুরুত্বপূর্ন দিন। রাষ্ট্রীয় এ কর্মসূচীতে শহেরর দেখা গেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি। এ বিষয়টি আমাকে বিচলিত করেছে। এটি সবার মনে রাখা উচিত।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা বলেন, আমাদের হাতে শুধু অস্ত্র ছিলনা, হৃদয়ে ছিল দেশপ্রেম, স্বাধীনতার স্বপ্ন বহু ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন আমরা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ কারো একক বা একটি গোষ্ঠির যুদ্ধ ছিল না। এ যুদ্ধ ছিল আমাদের জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা অর্জন এবং তা রক্ষার যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা ও মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি সহ দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন তাদের সম্মান আমাদের ধরে রাখতেই হবে।
পরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এদিকে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ পালন করা হয়েছে। ঐতিহাসকি এবং জাতীয় এ দিবসটি উপলক্ষ্যে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত এবং ভবন ও প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আদেশ থাকলেও শহেরর অধিকাংশ প্রতষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায় নি। এ নিয়ে সরকারি দল এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দদের মাঝে অসন্তোষ দেখা যায়। শহরের বেশকিছু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে সেই চিত্রই দেখা যায়। স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে-তো নগন্য তার মধ্যে স্থানীয় সরকার পরিষদ (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পতাকা উত্তোলন করেনি।
অপর দিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার সভায় বিষয়টি উত্তাপন করলে কারো কারো মাঝে তাৎক্ষনিক অসন্তোষ প্রকাশ না করলেও পরে কেউ কেউ বলেছিল এ বিষয়টি এড়িয়ে চলা ঠিক হবে না। স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল এ বিষয়ে তদারক করা। তবে বিষয়টি জানতে এ প্রতিবেদক মোহাম্মদ রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপপরিচালক স্থানীয় সরকার এর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি ঝুম মিটিংএ আছেন বলে জানান।