॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙিকার “ব্যক্তি নয়-পরিবারই উন্নয়নের মূল একক” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে ৪৫৬ টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে “ফ্যামিলি কার্ড” বিতরণ ও জেলার ১ম ধাপের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭জুন) দুপুড়ে রামগড় সদর ইউনিয়নের লামকুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের (ভার্চুয়াল) উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে সহায়তা দিতে চালু করা হয়েছে এ “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারী প্রধান পরিবারের নামে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রতিটি পরিবার কে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত এর সভাপতিত্বে স্থানীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া,এমপি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মোরতোজা আলী খাঁন, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, আবু আব্দুল্লাহ মোঃ ওয়ালি উল্ল্যাহ, রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী শামীম, রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিঃ ওবাইন, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজির আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত উল্ল্যাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপকারভোগী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবারগুলো এই ভাতার মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হবে এবং তাদের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহে সহায়তা মিলবে। উপকারভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি এই ভাতা প্রদান করা হবে। ফলে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঘরে বসে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।
এদিকে, রামগড় উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৪৫৬ জন উপকারভোগীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলে ও পর্যায়ক্রমে আর ও পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।