দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ব ভুমিকা রাখছে হালদা নদী: ড. রাজু আহমেদ
॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন, মানিকছড়ি ॥
দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র (রুই জাতীয়) হালদা নদী। প্রজনন মৌসমে রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউশসহ মিঠা পানির সকল মাছ ডিম দিতে অতিথি পাখির ন্যায় হালদা নদীতে এসে ভীড় জমায়। হালদার পানি মাছের প্রজননের জন্য অধিক নিরাপদ বিধায় মৎস্য উৎপাদনে হালদা দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার এমন কি পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার ভাটার নদী এই হালদা। কিন্তু হালদার গুরুত্ব এখনও হালদাপাড়ের মানুষের কাছে অজানা।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য বিভাগ এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ এসব কথা বলেন।
মানিকছড়ি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত হালদা পাড়ের চাষিদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া (ইউএনও) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. সুমন বড়ুয়া। এতে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মীর হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মান্নান, তামাক চাষি মোঃ তাজুল ইসলাম, মাসুম মিয়া ও মোঃ গিয়াস উদ্দিন প্রমূখ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান কর্মশালায় সঞ্চালনা করেন।
হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অংশীদারদের উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালার প্রধান অতিথি ড. রাজু আহমেদ আরো বলেন, হালদা আমাদের জন্য প্রকৃতির নিয়ামত। এই নদীর মৎস্য পোনা লাখ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এর ফলে দেশে মাছের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ব ভুমিকা রাখছে হালদা নদী। হালদার ওপর মানবসৃষ্ট দুর্বৃত্তায়ণে আজ এই হেরিটেজ ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য হালদার উজানে নদীর দুপাড়ে তামাক চাষ বন্ধে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। তাই তামাক চাষিরা হালদার আশেপাশে তামাক চাষের বিকল্প চাষাবাদে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে হালদা প্রকল্প এবং সরকারের মৎস্য ও কৃষি বিভাগ সহযোগিতা করবে।