॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংষ্কৃতি, ঐতিহ্য বজায় রেখে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন প্রসারিত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন এর প্রসারে কোন নির্দিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সংষ্কৃতির চিত্র পাওয়া যায়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) যৌথভাবে বাস্তবায়িত ProGRESS প্রকল্প এর কর্মএলাকা কামিলাছড়ি (আসামবস্তি টু কাপ্তাই লিংক রোড) পরিদর্শন করতে এসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইএলও বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর।
কর্মএলাকা পরিদর্শন করেন Mr. Max Benjamin Tunon–Country Director, ILO Bangladesh, Mr. Pedro Jr. Bellen-Chief Technical Advisor, ILO Bangladesh, Ms. Farhana Alam–Senior Program Officer, ProGRESS Project-ILO, Mr. Alexius Chicham–Senior Program Officer– ProGRESS Project-ILO। এসময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হাবীব আজম, সদস্য এবং পর্যটন আহবায়ক, নুরুদ্দীন মু. শিবলী নোমান, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ProGRESS Project কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. ভবতোষ দেওয়ান অত্র মৌজা হেডম্যান, কামিলাছড়ি এলাকাবাসী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাঙ্গামাটির পাহাড় আর লেককে কেন্দ্র করে পর্যটন বিষয়ক নানা ধরণের উদ্যোগ নেয়া যায়। কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন তার একটি অন্যতম উদ্যোগ, এতে করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংষ্কৃতি, সাংষ্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখে স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন এর প্রসারে কোন নির্দিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সংষ্কৃতির চিত্র পাওয়া যায়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গামাটি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। রাঙ্গামাটিতে পাহাড় এবং লেক উভয়ই থাকার কারনে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। রাঙ্গামাটি সদরের কামিলাছড়ি এলাকায় কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন একটি বিপুল সম্ভাবনা। লেকের পাশে এই শান্ত নিরিবিলি গ্রাম ঘিরে এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, পর্যটনের খাতে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন সম্ভাবনা, এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের এলাকায় নিজেদের সম্পদকে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করে নিজেদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ লাভ করতে পারে। কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন এর প্রসারে কোন নির্দিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, সংষ্কৃতির চিত্র পাওয়া যায়।
পরিদর্শনকারী দল কামিলাছড়ি এলাকায় কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটনের প্রসারের সম্ভাবনা বিষয়ে এলাকাবাসীদের সাথে আলোচনা করেন। এসময় এলাকাবাসীরা জানান, ছুটির দিনে এই এলাকায় অনেকেই পরিবার কিংবা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে আসেন।
কর্মশালায় মূলত নি¤œলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়, পর্যটন, এর ইতিহাস, কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন ও এর ব্যবস্থাপনা, এর মাধ্যমে জীবিকায়ন, স্থানীয় সম্পদ চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকি, আচরণবিধি ও নিরাপত্তা: পর্যটকদের জন্য সুর্নিদিষ্ট কোড অব কন্ডাক্ট এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ বান্ধব গাইডিং ও কৌশল, পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে কমিউনিটি ভিত্তিক পর্যটন ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।